ফ্রিল্যান্সিংয়ে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি, কিন্তু বাড়ছে ক্রিপ্টোকারেন্সির ঝুঁকি
লালমনিরহাটের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ২৫ বছর বয়সী সাবেক রেন্ট-এ-কার চালক এখন গাড়ি চালানো ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে অন্তত ২ লাখ টাকা আয় করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ফ্রিল্যান্সার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) জানান, ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয় দিয়ে তিনি এখন নিজস্ব একটি পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩০ জন তরুণ-তরুণীর অনলাইন কাজের সমন্বয়ও করছেন তিনি।
তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি মূলত কেনিয়া ও ভিয়েতনামের গ্রাহকদের কাছ থেকে গুগলের সার্চ র্যাঙ্কিং বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইট প্রমোশনের কার্যাদেশ পান। কাজগুলো তিনি দলের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেন, যারা ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের জন্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন।
তিনি জানান, তৈরি করা প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য তিনি ৭ থেকে ৮ টাকা পান, যার মধ্যে ২ থেকে ৩ টাকা কর্মীদের দেন।
এই ফ্রিল্যান্সার ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যে ১০ শতক জমি কিনেছেন এবং ভাড়ায় চালানো দুটি মাইক্রোবাসের মালিক হয়েছেন।
"বায়ারদের সাথে আরও ভালোভাবে দরকষাকষির জন্য আমি এখন অনলাইনে ইংরেজি শিখছি," বলেন তিনি।
গাড়ি চালানো থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে তাঁর এই পদার্পণ, কেবল তাঁর নিজের জীবনকেই পরিবর্তন করেনি, বরং পুরো গ্রামের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটও বদলে দিয়েছে। গ্রামের তরুণ-তরুণীরা এখন অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন, যা তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।
গ্রামের অনেক টিনের ঘরের জায়গায় এখন শোভা পাচ্ছে পাকা দালান। কলেজ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করে পরিবারে অবদান রাখছেন। বাসা-বাড়িতে কম্পিউটার এখন নিত্যদিনের চিত্র, যেখানে শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকেরা দীর্ঘ সময় অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে বাড়তি আয় করছেন।
নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা শেষ করেও পেশায় না গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং বেছে নেওয়া এক নারী ফ্রিল্যান্সার জানান, তিনি অনলাইন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মাসে ১২–১৫ হাজার টাকা আয় করেন।
তিনি এবং তাঁর স্বামী—যিনি আগের ঠিকাদারি ব্যবসা ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হয়েছেন—নবজাতক সন্তানের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি দুজনে মিলে ঘরে বসে কাজ করে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন।
অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে মিলছে বাড়তি আয়
তবে এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক ফ্রিল্যান্সারদের কাজের ক্ষেত্রে একটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে—তারা যেসব পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, তা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের আওতাভুক্ত নয়।
অনেকেই জানান, তাঁরা বায়ন্যান্স (Binance), বিটমার্ট (BitMart) এবং কুকয়েন (KuCoin)-এর মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেন; কারণ আনুষ্ঠানিক বা বৈধ চ্যানেলের চেয়ে এসব প্ল্যাটফর্মে ডলারের বিনিময় হার বেশি পাওয়া যায়।
লালমনিরহাটের ওই ফ্রিল্যান্সার জানান, তিনি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে চলেন কারণ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দর ভালো পাওয়া যায় এবং তাঁর মতে, এতে কাগজপত্র জমার ঝামেলাও কম থাকে।
তবে আমানত ছড়িয়ে রাখা এবং তহবিলের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে—তিনি প্রায় ১০টি ব্যাংকে হিসাব বজায় রাখার কথা স্বীকার করেছেন। লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় তিনি সম্প্রতি একটি ট্যাক্স ফাইল খুলেছেন এবং কর সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছেন।
অন্য এক ফ্রিল্যান্সার জানান, অপ্রাতিষ্ঠানিক পেমেন্ট চ্যানেলগুলোতে সাধারণত অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে প্রতি মার্কিন ডলারে ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি পাওয়া যায়।
টিবিএস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার জানান, তাঁরা বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পেমেন্ট পেয়ে থাকেন। বাইন্যান্স হলো বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ, যেখানে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো ডিজিটাল মুদ্রা কেনাবেচা ও ট্রেডিং করা যায়।
তবে ফ্রিল্যান্সাররা এতে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির কথাও স্বীকার করেছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, অনেক সময় বিদেশি বায়াররা অর্থ পরিশোধ না করেই হঠাৎ উধাও হয়ে যান, যার ফলে স্থানীয় কন্ট্রাক্টরদের নিজেদের পকেট থেকেই কর্মীদের মজুরি মেটাতে হয়।
আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ডলারের উচ্চতর দর পাওয়া এবং কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফ্রিল্যান্সাররা অপ্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেন। কারণ অপ্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম থেকে কাজের আদেশ পাওয়ায়, তাঁদের ঘোষিত আয়ের সমর্থনে প্রয়োজনীয় বা বৈধ কোনো নথিপত্রও থাকে না।
অর্থ পাচারের ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সতর্কতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ধারণা, অপ্রাতিষ্ঠানিক পেমেন্ট চ্যানেলগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহার করছে অর্থ পাচারকারীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, বেআইনিভাবে বিদেশে অর্থ পাঠাতে চাওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে স্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এজেন্টরা উচ্চ হারে ডলারের বিনিময় মূল্য পরিশোধ করে থাকে। তিনি এই চর্চাকে হুন্ডির মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক পেমেন্ট পদ্ধতির ওপর ব্যাপক নির্ভরতার কারণে ফ্রিল্যান্সাররা অর্থ পাচারকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমে পরিণত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বৈধ পেমেন্ট অপশন বা চ্যানেল সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবেও— অনেক ফ্রিল্যান্সার এসব নিষিদ্ধ মাধ্যম ব্যবহার করে চলেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত অবৈধ কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত লেনদেন নানা পেশা ও আয়ের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে চাকরিজীবীদের লেনদেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা বছরে ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, স্থায়ী আয়ের চাকরিজীবীরাও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো নিষিদ্ধ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ছেন। গৃহিণী, কৃষক, জেলে ও শিক্ষার্থীরাও অবাক করার মতো মাত্রায় এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন, যাঁরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার এ ধরনের লেনদেন করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি নির্দেশ করে যে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড শহুরে চাকুরিজীবী শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ পরিবার, গ্রামীণ সম্প্রদায় ও তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে; যা ব্যক্তিগত সঞ্চয়, রেমিট্যান্স এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর ব্যাপক অপব্যবহার ঘটাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায় যে ফ্রিল্যান্সার, প্রযুক্তি খাতের কর্মী এবং ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার পেশাজীবীরা—যাঁরা সাধারণত সামাজিকভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বেশি সক্রিয়—তাঁদেরও এতে উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা রয়েছে। যৌথভাবে তাঁরা ২০০ কোটি টাকারও বেশি সন্দেহজনক লেনদেন পরিচালনা করেছেন।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ ব্যক্তিরা কেবল ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত প্রতারণার শিকারই হচ্ছেন না, বরং তাঁরা হয়তো অফশোর বেটিং ও অনিয়ন্ত্রিত ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম থেকে মুনাফা অর্জনের চেষ্টাও করছেন।
প্রতিবেদনটিতে আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—দিনমজুর, গৃহশিক্ষক, কোচিং সেন্টারের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও নির্ভরশীলদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষও এতে জড়িয়ে পড়ছেন। সীমিত আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এসব গোষ্ঠীর মানুষজন সম্মিলিতভাবে শত শত কোটি টাকা লেনদেন করেছে; যা প্রতারণামূলক স্কিম, আসক্তিজনিত লেনদেন কিংবা অন্যদের মাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহারের আশঙ্কাজনক চিত্র নির্দেশ করে।
সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষ অনলাইন গেম, বেটিং, জুয়া এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন, যা একটি দ্রুত বিস্তারমান সামাজিক প্রবণতাকে তুলে ধরে।
সব ধরণের আয় ও পেশার মানুষের ব্যাপক সম্পৃক্ততা একটি ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়; যেখানে বেআইনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের আর্থিক আচরণকে প্রভাবিত করছে, আসক্তিমূলক ব্যয়প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে এবং আন্তঃসীমান্ত অবৈধ অর্থ স্থানান্তরকে সহজতর করছে।
বৈধ চ্যানেলেও বাড়ছে ফ্রিল্যান্সিং আয়
অপ্রাতিষ্ঠানিক পেমেন্ট চ্যানেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক বা বৈধ চ্যানেলেও ফ্রিল্যান্সিং খাতের আয় ক্রমাগত বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং সেবা খাত থেকে প্রায় ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল প্রায় ২০ কোটি ডলার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাতের বার্ষিক আয় ৫০ কোটি ডলারের উপরে রয়েছে। বৈধ চ্যানেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সাররা মূলত পেওনিয়ার (Payoneer) ও ওয়াইজ (Wise)-এর মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেন।
মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা বিকাশ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে তারা তাদের প্ল্যাটফর্মে পেওনিয়ার সেবা একীভূত করার পর থেকে বর্তমানে এই এমএফএস প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ১ কোটি থেকে ১.২ কোটি (১০-১২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেন সম্পন্ন করছে।
পেমেন্ট বিধিবিধান সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার উৎসাহিত করতে সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সার ও অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত বিধিবিধান শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত জুলাই মাসে জারীকৃত এক সার্কুলারের অধীনে, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্রথাগত রপ্তানি নথিপত্রের তোয়াক্কা না করে প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ইমেইল ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যাদিসহ ইলেকট্রনিক রেকর্ডের ভিত্তিতে তাঁদের রপ্তানি আয় গ্রহণ করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স বা বিদেশ থেকে আসা অর্থ গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছে।
সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে ডুয়েল কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ব্যবহারের পরিধি সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
তাছাড়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের ফ্রিল্যান্সাররা রপ্তানি আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ফরেন কারেন্সি রিটেনশন অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবেন, আর অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকরা রাখতে পারবেন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।
পৃথক আরেকটি সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্টের জন্য একটি ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো চালু করেছে, যা স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে পেপাল, পেওনিয়ার এবং একই ধরণের অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের সাথে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ফার্ম ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক লেনদেনকে সহজ করবে এবং একই সঙ্গে তাঁদের নিবন্ধিত ও নিয়ন্ত্রিত পেমেন্ট চ্যানেলগুলোর ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করবে।
