শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল শিক্ষায় ৯৮.৮৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেল বাংলাদেশ
দেশের শিক্ষা খাতে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে 'গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন' (জিপিই) থেকে ৯৮.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীতে 'জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট' (এসটিজি) এবং 'মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এই তহবিলের কথা জানানো হয়।
এই অর্থায়ন মূলত দুটি অংশে বিভক্ত—৪৮.৮৫ মিলিয়ন ডলারের 'সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট' এবং ৫০ মিলিয়ন ডলারের 'মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট'।
এই গ্র্যান্টের আওতায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চার বছর মেয়াদী একটি কর্মসূচি শুরু হবে, যার মূল লক্ষ্য দেশব্যাপী শিক্ষকতা পেশার মানোন্নয়ন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ৭৭ হাজার শিক্ষক উপকৃত হবেন। এর অধীনে শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পেশাগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ারের অগ্রগতি, জবাবদিহিতা এবং সহায়তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। এছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ 'শিক্ষক নীতিমালা কাঠামো' প্রবর্তন, প্রাক-সেবা শিক্ষক শিক্ষা পদ্ধতির পাইলটিং, ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং মেন্টরিং ও একাডেমিক নেতৃত্ব শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৫০ মিলিয়ন ডলারের এই মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্টটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৩০০ মিলিয়ন ডলারের 'নেক্সটজেন এডুকেশন প্রোগ্রাম'-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চলমান এই প্রকল্প প্রযুক্তি-নির্ভর এবং 'ব্লেন্ডেড লার্নিং' বা মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতিকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে প্রায় ৭ লক্ষ শিক্ষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্টের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফ এবং ইউনেস্কো-কে কো-গ্র্যান্ট এজেন্ট হিসেবে নির্বাচন করেছে। অন্যদিকে, মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্টের জন্য এডিবি গ্র্যান্ট এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সরকার জানিয়েছে, এই বিনিয়োগ মূলত শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে মানবসম্পদ শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। একই সাথে সরকার শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির বর্তমান ২ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, জিপিই-র সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় এই নতুন অর্থায়ন যুক্ত হলো। এর আগে ২০২৫ সালে শিক্ষা সংস্কার, নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষা ডাটা সিস্টেম এবং সেক্টর সমন্বয়ের জন্য ২.৬ মিলিয়ন ডলারের একটি 'সিস্টেম ক্যাপাসিটি গ্র্যান্ট' পেয়েছিল বাংলাদেশ।
