বাংলাদেশে টেকসই স্থাপত্য চর্চা নিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন গবেষণা প্রকাশ
ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টস আজ (২২ মে) ঢাকার ধানমন্ডির ১৬ নম্বর রোডের ৪২ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত বেঙ্গল শিল্পালয়ে 'সাসটেইনেবল আর্কিটেকচার প্র্যাকটিস' শীর্ষক একটি গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী প্রকাশনা উন্মোচন করেছে।
বাংলাদেশে টেকসই এবং জলবায়ু-সহনশীল স্থাপত্যের ওপর দেশব্যাপী পরিচালিত একটি গবেষণা উদ্যোগের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষ একত্রিত হন।
এই প্রকাশনাটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি দেশব্যাপী গবেষণার ফল। এই গবেষণায় সরকারি, বেসরকারি এবং তৃণমূল পর্যায়সহ বাংলাদেশের বিদ্যমান টেকসই এবং জলবায়ু-সহনশীল স্থাপত্য চর্চাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। একইসাথে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়ন ও স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিনির্ধারণী সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অধ্যাপক আতিকুর রহমান, অধ্যাপক রিপিন কালরা এবং স্থপতি খন্দকার হাসিবুল কবির গবেষণার মূল ফলাফল এবং কেস স্টাডিগুলো তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ বলেন, 'টেকসইতা চিন্তা ও চর্চার একটি নতুন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে, বিশেষ করে আমরা মানুষ হিসেবে পৃথিবীর ওপর এবং পৃথিবীর জন্য যা করি। আমরা আজ যাকে টেকসই স্থাপত্য বলছি তা মূলত শতাব্দী ধরে বিদ্যমান ছিল৷ যেমন, বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল এবং জলবায়ুতে মানুষ তাদের নিজস্ব উপকরণ ও সামাজিক সম্পদ ব্যবহার করে বসতবাড়ি তৈরি করে জীবনযাপন করত।'
প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত সবার উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বলেন, 'আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উদ্যোগে সমর্থন দিতে পেরে গর্বিত, যা টেকসই স্থাপত্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলোকে তুলে ধরে এবং নকশার মাধ্যমে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দক্ষতার শক্তির প্রতিফলন ঘটায়। এই প্রকাশনাটি কেবল স্থানীয় জ্ঞান এবং চর্চাকেই প্রসারিত করে না, বরং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বৈশ্বিক আলোচনায় অবদান রাখে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা আশা করি যে, ব্যবহারিক ও স্থানীয়ভাবে শিকড়যুক্ত সমাধানগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যৎ নীতিমালা তৈরিতে তথ্য প্রদান করবে এবং নির্মাণ খাতের উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করবে।'
এই প্রকাশনাটিতে একটি স্কোপিং রিপোর্ট, উদ্ভাবনী টেকসই নকশার কেস স্টাডি এবং স্থাপত্যে টেকসই ও সহনশীলতা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা বোর্ডের নির্দেশনাসহ একটি পলিসি রিপোর্টের মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত চর্চাগুলো নথিভুক্ত ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফলগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারের লক্ষ্যে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
