চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা: ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ হেফাজতে অভিযুক্ত, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে তাকে প্রায় ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে তাকে ঘটনাস্থল থেকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
এই দিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডাক্তার শাহাদাৎ হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেলে শিশুটি দেখতে যান। তিনি বলেন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে কোনো ছাড় নয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ- কমিশনার (দক্ষিণ) হোসেন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া রাত দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত আছে।
তিনি আরও বলেন, 'অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। যখন উত্তেজিত জনতা মব করতে পারে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়, তখন ভবনটির ভেতরে পুলিশ অবস্থান নিয়েছিল। পুলিশ সদস্যরাই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হেফাজতে রেখেছিলেন। উত্তেজিত জনতা ছত্রভঙ্গ করতে কিছু সাউন্ড গ্রেনেড ও গ্যাস গান ব্যবহার করা হয়েছে।'
পুলিশ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিরুল রশীদ টিবিএস কে বলেন পুলিশের অন্তত ১০ জনতার ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হয়। জনগণকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাদানে গ্যাস ছুড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। ব্যাব, এপবিএন মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এর আগে বাকলিয়া থানা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ভবন ঘেরাওয়ের পর অভিযুক্ত আসামিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত যুবক যে ভবনে লুকিয়ে ছিল, সেটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
