মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের বৃহত্তম নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
ঢাকার বায়ু, পানি ও মাটিদূষণ মোকাবিলায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে উত্তরা দিয়াবাড়ি ৪ নম্বর ব্রিজসংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্ব পাশে গ্রিনবেল্ট এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, 'নগর জীবনে গাছের বাস্তব উপকারিতা অনুভব করার মতো উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়।'
তিনি এই বনায়ন প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'এমন সবুজ পরিবেশ নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, 'এই বনভূমি ঢাকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানে ৩৯ হাজারের বেশি গাছ লাগানো হচ্ছে।'
এর আগে একই স্থানে ফেইজ-১-এর আওতায় ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এখন শুরু হওয়া ফেইজ-২ ও ফেইজ-৩-এ প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে ৩৯ হাজার ৪০০টি গাছ রোপণ করা হবে। এতে দেশীয় ফলজ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতির এই বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন (প্রকৃতিবান্ধব নকশা) ও বায়োমিমিক্রি (প্রকৃতি অনুকরণ) নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বিশেষভাবে প্রস্তুত করা দো-আঁশ মাটির সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট, রাইস হাস্ক, বোনমিল ও জৈব সার মিশিয়ে বনভূমির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
ডিএনসিসি জানায়, জাপানি ধারণা 'শিনরিন ইয়োকু' বা 'বন স্নান'-এর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ঘন সবুজের ভেতর হাঁটার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির এই নগর বনায়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন অধিদপ্তর, শক্তি ফাউন্ডেশন, গ্রিন সেভার্স, গ্রীন ভয়েস, ব্রাইটার্স, ইউথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন এবং যুব ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা। এছাড়া ইডিফেস প্রতিষ্ঠান মিয়াওয়াকি বনায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই ও সার্ভে কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
বায়ুমান বিশ্লেষণ ও করণীয় নির্ধারণে টাস্কফোর্স সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন প্রফেসর ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার (স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি) এবং রওফা খানম (ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি)। আর মিয়াওয়াকি বনায়ন, বায়োফিলিক ডিজাইন ও ল্যান্ডস্কেপ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন আরহাম উল হক চৌধুরী।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
