'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি' কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বাজেটে, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আসন্ন বাজেটে 'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি' কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে এক কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ ছাড়া উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে দেশের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার চারা, ৩ হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার চারা এবং ৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ ছাড়া বসতবাড়ি বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ৫৬ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে 'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি' কর্মসূচির আওতায় নিজ বাড়ি বা আঙিনায় এক কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
ম্যানগ্রোভ বন ও কার্বন ট্রেডিং
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে এবং বন সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নতুন অর্থায়নের উৎস সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে 'সার্কুলার ফিউচার মডেল' বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে বাজেটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
