বাংলাদেশে ৪ লাখের বেশি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগিয়েছে বিটিএসের ব্যবস্থাপনা সংস্থা হাইব
দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন প্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের ব্যবস্থাপনা সংস্থা হাইব গত তিন বছরে বাংলাদেশে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত '২০২৫ সাসটেইনেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট রিপোর্টে' এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইবের 'ইকো ভিলেজ' প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনার দাকোপ উপজেলায় প্রতি বছর এক লাখ ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে কে-গ্রিন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রকল্পটি চালু হয়।
হাইব জানিয়েছে, ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর কার্বন শোষণকারী বৃক্ষগুলোর একটি। স্থলভাগের গাছের তুলনায় এগুলো চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি কার্বন শোষণ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, পুনরুদ্ধার করা এই বন আগামী ২০ বছরে প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন কার্বন শোষণ করবে।
কার্বন শোষণের পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ বন বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া উপকূলীয় জনপদকে ঝড় থেকে সুরক্ষা দেয় এবং মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহসহ বিভিন্ন আয়ের উৎস তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবিকায়ও সহায়তা করে।
হাইবের টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৬০টি ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ৩৫৫টি পরিবারের ৫ হাজার ৪৩০ জন উপকৃত হয়েছেন।
হাইবের সাসটেইনেবিলিটি কমিটি জানিয়েছে, 'বিনোদন শিল্প পরিবেশের ওপর যে প্রভাব ফেলে, তা বিবেচনায় রেখে হাইব পরিবেশগত দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে। অ্যালবাম, পণ্যসামগ্রী (মার্চেন্ডাইজ) ও কনসার্ট থেকে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ে, তা আরও কমাতে আমরা আমাদের উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছি।'
সম্প্রতি পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপাদান 'পিসিআরএবিএস' (পোস্ট-কনজ্যুমার রিসাইকেলড অ্যাক্রাইলোনাইট্রাইল বিউটাডিয়েন স্টাইরিন) ব্যবহার করে বিটিএসের চতুর্থ সংস্করণের 'লাইট স্টিক' তৈরির জন্য এলজি কেম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান লেটজিরোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে হাইব।
এছাড়া, অ্যালবামের প্যাকেজিংয়েও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। কুশনিং উপকরণ ও বাইরের বাক্স তৈরিতে কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রচলিত অ্যালবামের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল অ্যালবামও তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে শিল্পী, ভক্ত এবং কর্মীদের জন্য গত বছরে হাইবের টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
