কাপ্তাই হ্রদে নিবন্ধিত ২৭ হাজার জেলেকে কৃষি কার্ডের আওতায় আনা হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
কাপ্তাই হ্রদে নিবন্ধিত প্রায় ২৭ হাজার জেলেকে পর্যায়ক্রমে কৃষি কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, 'এর মাধ্যমে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা কার্যক্রম আরও সহজলভ্য হবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।'
আজ বুধবার (০৬ এপ্রিল) রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বিএফডিসি ঘাটে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্র, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'কাপ্তাই হ্রদ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে হ্রদের নাব্যতা কমে গেছে, যার ফলে মৎস্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ড্রেজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা হ্রদের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে চাই এবং এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই।'
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার কৃষি, স্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন করা। মৎস্য খাতকে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আরও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।'
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইমাম উদ্দীন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিজিবি রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন এবং কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন (বিএফডিসি) কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং মৎস্যজীবীদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন।
