মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে গাড়ি: বাজারে ধস ঠেকাতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব বারভিডার
ডলারের উচ্চ মূল্য ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে গাড়ির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আগামী বাজেটে আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আগামী অর্থবছরের বাজেটের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি বলেন, 'একসময় দেশে প্রায় ৩০ হাজার গাড়ির বাজার ছিল, যা গত বছর ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশনও এখন এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ডলারের দাম ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে গাড়ির দাম এত বেশি হয়ে গেছে যে মধ্যবিত্ত মানুষ আর গাড়ি কিনতে পারছে না৷ অন্যদিকে, যারা আর্থিকভাবে সক্ষম ছিল, তাদের একটি অংশ গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে চলে গেছে এবং তাদের অর্থও লুকিয়ে রেখেছে।'
এই প্রেক্ষাপটে শুল্ক কমানোর ওপর জোর দিয়ে বারভিডা সভাপতি বলেন, 'গাড়ির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক কমালে বাজারে গতি ফিরবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।'
প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, 'বিশ্বের অনেক দেশ বিনিয়োগের বিপরীতে নাগরিকত্ব বা বিশেষ সুবিধা দেয়। বাংলাদেশেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এমন সুযোগ দিলে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিকেল ও সাধারণ জ্বালানি চালিত গাড়ির মধ্যে শুল্ক ব্যবধান প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা প্রয়োজন।
বারভিডা সভাপতির মতে, নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক কাঠামো সহজ করা হলে গাড়ির বাজার ঘুরে দাঁড়াবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সরকারও বেশি রাজস্ব পাবে।
এ সময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কিছু অনলাইন সেবা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান।
