হাইব্রিড ও জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি বারভিডার
আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি ও জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।
একই সঙ্গে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, পিকআপে শুল্ক কমানো, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন বৈষম্য দূর করা এবং আমদানিযোগ্য গাড়ির বয়সসীমা ৫ বছর থেকে ৮ বছরে উন্নীত করার দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার (২ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক।
তিনি বলেন, 'জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমানো জরুরি।' পাশাপাশি গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির ওপর কর হ্রাসের প্রস্তাব দেন তিনি।
বারভিডার দাবি, রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানি ও বিপণন খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে। সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেয়। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে এ খাতকে ঘিরে।
সংগঠনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমদানি শুল্ক, আয়কর, ভ্যাট ও 'রোড ট্যাক্স' দেওয়ার মাধ্যমে তারা কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতেও অবদান রাখছে। এ ব্যবসাকে ভিত্তি করে ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি ও বীমা কোম্পানির কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, ২০২৪ সালের পর বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিছুটা কমলেও শুল্ক ও কর হার অপরিবর্তিত থাকার মধ্যে 'টাকার অবমূল্যায়নের' কারণে আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়েছে। এতে অধিকাংশ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে গাড়ি, যার ফলে বিক্রিও কমেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাপান থেকে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা ও তানজানিয়ার চেয়েও বাংলাদেশে 'কম' গাড়ি আমদানি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
বিআরটিএর তথ্য তুলে ধরে বারভিডা জানায়, ২০১৫ সালে ২১ হাজার ৯৫২টি, ২০১৬ সালে ২১ হাজার ২৯টি এবং ২০১৭ সালে ২০ হাজার ২৬৮টি গাড়ি নিবন্ধিত হলেও ২০২৩ সালে তা কমে ১০ হাজার ৭৮৪টিতে নেমে আসে। ২০২৪ সালে নিবন্ধন হয় ১০ হাজার ৪৯৯টি, আর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৯ হাজার ৩৮৭টিতে।
