৫ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫% করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা খাতে বাড়তি বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণ করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যেই আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই অর্থ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।'
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় জাতীয় শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক স্কিম রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া 'লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন' প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণে ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ, আইসিটি, ব্লেন্ডেড লার্নিং, মানসিক স্বাস্থ্য, বুলিং প্রতিরোধ, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে চলতি অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে ৩ হাজার ৪০ দশমিক ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৯৬ দশমিক ৪ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৮৪৪ দশমিক ৫ কোটি টাকা রয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে পিইডিপি-৫ সহ পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তির জন্য ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
