বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার কে এই বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদী?
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা দিনেশ ত্রিবেদী।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগের কথা জানিয়েছে। কূটনীতির এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসা কে এই দিনেশ ত্রিবেদী?
রাজনৈতিক পরিচয়
দিনেশ ত্রিবেদী বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তবে ভারতীয় রাজনীতিতে তার মূল উত্থান তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) হাত ধরে। ইউপিএ সরকারের আমলে তিনি তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ভারতীয় রাজনীতিতে দিনেশ ত্রিবেদী সবচেয়ে বেশি আলোচিত ২০১২ সালের একটি নাটকীয় ঘটনার জন্য। ওই বছর রেলমন্ত্রী হিসেবে ভারতের রেলওয়ের নিরাপত্তা ও আধুনিকায়নের স্বার্থে বাজেটে যাত্রীদের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি। কিন্তু নিজ দলের এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত মমতার চাপে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভার সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিন দফায় (১৯৯০-১৯৯৬, ২০০২-২০০৮ এবং ২০২০-২০২১) তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি আচমকা রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঠিকানা তৃণমূল ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।
রাজনীতির মাঠের বাইরে দিনেশ ত্রিবেদীর শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি কলকাতার স্বনামধন্য সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক (বি.কম) সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর বা এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনীতির বাইরের জীবন
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, দিনেশ ত্রিবেদী রাজনীতিবিদের পাশাপাশি একজন প্রশিক্ষিত ও পেশাদার পাইলট। রাজনীতিতে পুরোদমে জড়িয়ে পড়ার আগে একসময় তিনি নিজস্ব এয়ার ফ্রেইট বা কার্গো কোম্পানি সফলভাবে পরিচালনা করতেন।
সমাজকর্মী হিসেবেও ভারতে তার দারুণ সুখ্যাতি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের 'রাইট টু ইনফরমেশন' (আরটিআই) বা তথ্য অধিকার আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ভারতের রাজনীতিতে অপরাধী ও রাজনীতিবিদদের গোপন আঁতাত নিয়ে তৈরি আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ভোহরা রিপোর্ট' যেন সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হয়, সে দাবি নিয়ে তিনিই সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের মতে, রাজনৈতিক এই নেতাকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি মোদি সরকারের একটি বিশেষ কৌশল। এটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেশাদার কূটনীতিকদের জন্য জবাবদিহিতার একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে। সদ্য সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা খুব শিগগিরই ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যোগ দিচ্ছেন। এরপরই দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় তার নতুন দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
