ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেলেন দিনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। খুব শিগগিরই এই কূটনীতিক ঢাকায় তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এর আগে ১৯ এপ্রিল হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রবীণ বিজেপি নেতা এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে তাদের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওই সময় যোগাযোগ করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছিলেন যে, সরকার এমন নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং যথাসময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে।দিনেশ ত্রিবেদীকে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।এর মাধ্যমে সরকার বুঝিয়ে দিল যে, শুধু ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসের (আইএফএস) কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, বন্ধুপ্রতিম গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে দলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদেরও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের জন্য তারা উন্মুক্ত।
হিন্দুস্তান টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল যে, ত্রিবেদীর এই নিয়োগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরের কূটনীতিকদের জন্যও জবাবদিহিতার একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে।
কে এই দিনেশ ত্রিবেদী?
দিনেশ ত্রিবেদী বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তবে ভারতীয় রাজনীতিতে তার মূল উত্থান তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) হাত ধরে।
পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ত্রিবেদী এর আগে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় তিনি শুরুতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
তৃণমূলের সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পদত্যাগ করার ঘটনার জন্য দিনেশ ত্রিবেদী ভারতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
২০১২ সালে রেলমন্ত্রী হিসেবে রেলওয়ের নিরাপত্তা এবং আধুনিকায়নের জন্য বাজেটে ট্রেনের যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তবে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ত্রিবেদীকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে টানা দুই মেয়াদে লোকসভায় ব্যারাকপুরকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন দিনেশ ত্রিবেদী।
এর আগে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি পুনরায় তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যান। কিন্তু ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি আচমকা রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন এবং তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপির রাজনীতিতে যোগ দেন।
