সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল, থাকছে আপিলের সুযোগ
ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ সিদ্ধান্ত দেন রিটার্নিং অফিসার ইসির যুগ্মসচিব মঈন উদ্দীন খান। তিনি বলেন, 'সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হল।'
রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনিরা শারমিনের নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইসির উপসচিব মনির হোসেন বলেন, 'আসনটি শূন্য হওয়ার পরে সব দল বা জোটের জন্য সেটি উন্মুক্ত হবে।'
উল্লেখ্য, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রথম দিনে জামায়াত ও এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে মনিরা শারমিন ছাড়া বাকি ১২ জনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান বলেন, 'আমরা ১৩টি মনোনয়নপত্র বাছাই করেছি, যার মধ্যে ১২টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একজনের মনোনয়নপত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত বর্তমানে অপেক্ষমাণ (পেন্ডিং) রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য আগামীকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।'
স্থগিত হওয়া প্রার্থীর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, 'মনিরা শারমিন যে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, তাতে সরকারি পে-স্কেলের কথা উল্লেখ রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তাঁকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণসহ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।'
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর চাকরির পর ২০২৫ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। আরপিও-র নিয়ম অনুযায়ী তাঁর তিন বছর পূর্ণ হয়েছে কি না, ইসি এখন সেটিই খতিয়ে দেখছে।
