সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে ফের হামলার অভিযোগ; প্রধানমন্ত্রীকে কাফফারা দিতে হবে: পাটওয়ারী
সিলেটের জৈন্তাপুরে 'জুলাই পদযাত্রা' থেকে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটির দাবি, হামলায় বহরের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুজন আহত হয়েছেন। অবশ্য পুলিশ এই হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে।
গত শুক্রবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে এনসিপি। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সংসদ সদস্য ও নারী শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু।
রাতে জৈন্তাপুরে সমাবেশ শেষ করে যখন এনসিপি নেতারা গাড়িতে করে ফিরছিলেন, তখন বাইরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হামলার বিষয়ে অভিযোগ করা হয়। স্ট্যাটাসের সাথে একটি ভিডিও যুক্ত করে দেওয়া হয়, যেখানে দেখা যায় একটি মাইক্রোবাসের গ্লাস ভাঙা এবং ভেতরে থাকা একজনের হাত থেকে রক্ত ঝরছে।
পরে রাতে জৈন্তাপুর থেকে ফিরে সিলেট সার্কিট হাউসে হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাটওয়ারী বলেন, 'আজকে আমার রক্ত ঝড়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাফফারা দিতে হবে। আমি এর প্রতিশোধ নেব।'
তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, 'জৈন্তাপুরে স্টেজ থেকে নেমে গাড়ি কয়েক মিনিট ক্রস করার পর বিকট একটি শব্দ হয়। আমাদের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গিয়েছে, বড় একটি ইট পড়েছে, আমার হাতে ইটের আঘাতের দাগ আছে। মাথায় পড়লে মাথা ফাটতো নিশ্চিত।'
নাসিরুদ্দীন বলেন, 'আজকে ইশরাক উস্কানি দিয়েছেন, রাশেদ খান উস্কানি দিয়েছেন। আমি জীবন নিয়ে শঙ্কাবোধ করছি, আমি নিরাপদ নই। তবে আমি দলকে বলে দিয়েছি যে তারেক রহমান আজকে রাজনৈতিকভাবে একটি মস্তবড় ভুল করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'শেখ হাসিনা আমাদের রিমান্ডে নিয়েছিল। তাকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়েছি। তারেক রহমান আপনি মস্তবড় ভুল করেছেন, এজন্য আপনাকে কাফফারা দিতে হবে। এমন কাফফারা যা আপনি এক্সপেক্ট করবেন না। আপনি আমাকে পার্সোনাল রক্ত ঝরিয়েছেন। আপনি আমার বয়সে বড়, ছোটভাইয়ের রক্ত প্রতিশোধ নেবে। আপনার থেকে আমি পার্সোনালি রক্তের প্রতিশোধ নেব।'
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, 'যার আসনে গিয়েছিলাম, তাকে বলেছিলাম, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সালাউদ্দিন সাহেবকে বলেছিলাম নিরাপত্তার শঙ্কার কথা, তিনি বলেছেন যে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না। ঠিক আছে, মারা যাব।'
তবে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম মোল্লা। তিনি বলেন, 'হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া। এরকম কিছুই ঘটেনি। সমাবেশ শেষে তারা নিরাপদে জৈন্তাপুর ছেড়ে গেছেন। রাস্তায়ও তাদের সাথে পুলিশ রয়েছে। এছাড়া তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে।'
পুলিশের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পাটওয়ারী বলেন, 'আমার পিছনে এএসপির গাড়ি ছিল, সামনে পুলিশের গাড়ি ছিল। পাশে মোটরকেড ছিল। এখনও গাড়ি ভাঙা আছে, ইট আছে, আঘাত আছে। আমরা আশা করব যে, পুলিশ ভাইয়েরা তাদের চরিত্র পরিবর্তন করবে। আমরা এসপিকে জানিয়েছি, পুলিশকে জানিয়েছি।'
