বিএনপি দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
বিএনপি দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, 'বিএনপি দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এনসিপির ওপর এসব হামলা হচ্ছে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নে কাজ করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।'
সম্প্রতি হবিগঞ্জ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন বলেন, 'দেশে আইনের শাসন নেই। দেশে কেউ নিরাপদে নেই।'
এসময় দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারী এমপি ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, 'তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের মেরে ফেলতে চান।'
তিনি বলেন, 'তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের, জুলাইয়ের তরুণ নেতাদের, আমাদের মেরে ফেলতে চান। শেখ মুজিব যেমন জাসদ নেতাদের মেরে ফেলেছিলেন। তারেক রহমানও কি আমাদের হত্যা করে একা রাজনীতি করতে চান? সেটা করতে চাইলে উনি আমাদের বলুক।'
গোলাপগঞ্জের হামলা প্রসঙ্গে মিতু বলেন, 'জুলাইয়ের নেতারা হামলার শিকার হচ্ছে, ছাত্রদল-বিএনপি হামলা করছে, তারেক রহমানের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এভাবে তিনি দেশ চালাতে পারবেন না।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামালা করা হয়েছে। সেন্ট্রালি অরগানাইজডলি তারা (বিএনপি) এটা করছে।'
মিতু বলেন, 'আজকে দুদিন ধরে হামলা হচ্ছে, কিন্তু বিএনপির সেন্ট্রালি কোনো আওয়াজ নেই, কাউকে বহিস্কার করেনি; বরং তারা পুলিশকে বলছে, তোমরা চুপ থাকো।'
তিনি বলেন, 'আজ যেভাবে গ্লাস ভাঙছে, স্পট ডেড হতে পারতো। আরেকটা ইট ছুঁড়লেই কেউ মারা যেতো।'
হামলার প্রসঙ্গে সারজিস আলম প্রশ্ন তোলেন, 'শেখ হাসিনার মতো তারেক রহমানও এখন কি ছাত্রদলকে খুনি বাহিনী বানাতে চান? যদি তারেক রহমান তাই চান, তাইলে ঘোষণা দিক। আমরা ওইভাবে প্রস্তুতি নেব।'
তিনি বলেন, 'ছাত্রদলকে তারেক রহমান এভাবে সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত করবে আমরা ভাবিনি। তাহলে প্রটেকশন নিয়ে চলতাম।'
তিনি আরও বলেন, 'আর পুলিশ তো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। এই পুলিশ বাংলাদেশের পুলিশ নয়, এটি তারেক রহমানের পুলিশ। তারেক রহমান আমাদের দমন করার জন্য স্বৈরাচারী পথ বেছে নিয়েছেন।'
এরআগে, সোমবার দুপুরে ইটপাটকেল ছুঁড়ে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওই গাড়িতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু ছিলেন। এই হামলার পর এনসিপি নেতারা সিলেট সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। এরপর সন্ধ্যায় পদযাত্রা নিয়ে কানইঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতনিবিনিময় করতে সিলেটের গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
এরআগে থেকেই গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছামাত্র ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা 'ভুয়া ভুয়া', 'এনসিপি ভুয়া' ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হলে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা গেইটের নূর ম্যানশনের সামনে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িটির গ্লাস ভেঙে যায়।
এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদল ও বিএনপি এই হামলা চালিয়েছে।
এরআগে, এদিন সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) মিলনায়তনে 'অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ'- শীর্ষক আালোচনা সভায় অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলটির কয়েকজন নেতা।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপির উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'হবিগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জ। আমরা যা দেখছি, দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যের দিকে আবারও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র আবারও জাতির সামনে উন্মেচিত হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'সরকার সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে, জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে।'
শাবিপ্রবির এই অনুষ্ঠানের কিছু আগে গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আমরা গোলাপগঞ্জ যাব, আমরা দাঁড়াব, দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না। আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না। দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক কোনো শক্তির উত্থান ঘটুক বর্তমান সরকার সেটা চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।'
নাহিদ ইসলাম বলেন, 'খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এনসিপির ওপর হামলা করছে।'
