এবার রাজধানীর আশুলিয়ায় চায়ের দোকানের সামনে মিলল প্রেশার কুকার দিয়ে তৈরি বোমা
রাজধানী ঢাকার আশুলিয়ায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে এবার প্রেশার কুকার দিয়ে তৈরি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুরবাগান এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে ব্যাগের মধ্যে বোমাটি রেখে যায় এক ব্যক্তি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। রাতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে পাশের একটি মাঠে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন।
চায়ের দোকানদারের বরাত দিয়ে তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি মোজো কিনতে ওই দোকানে আসেন। কিন্তু টাকা খুচরা না থাকায় দোকানদার পাশের আরেকটি দোকানে টাকা খুচরা করতে যান। এ সময় ওই ব্যক্তি ব্যাগটি দোকানের সামনে ফেলে পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময়েও ওই ব্যক্তি ফিরে না এলে স্থানীয়রা ব্যাগটি খুলে দেখেন তাতে টেপ মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার রয়েছে। পরে তারা পুলিশকে ফোন দেন।'
তিনি আরও জানান, রাত ১টায় খবর পাওয়ার পর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে পাশের একটি খালি মাঠে গর্ত খুঁড়ে চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'উদ্ধার হওয়া বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য তদন্ত শুরুর পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।'
এদিকে সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, বোমাটি রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর সংখ্যক বিয়ারিংয়ের বল ছিল।
এর আগে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। বোমাটিতে মিটমিট করে লাল বাতি জ্বলছিল এবং শব্দ হচ্ছিল।
বোমাটি যখন পাওয়া যায়, তখন ওই এলাকা দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব উল্টো রথযাত্রার একটি র্যালি যাচ্ছিল, যেখানে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হন। তার বাঁ চোখে আঘাত লাগে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, উল্টো রথযাত্রার র্যালিকে লক্ষ্য করেই বোমাটি মেট্রো স্টেশনের নিচে রাখা হয়েছিল।
