টেন্ডারে তেল কিনতে দরপত্র দাখিলের সময় ১০ দিন করছে সরকার
জরুরি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তেল আমদানির লক্ষ্যে দরপত্র প্রস্তুত ও দাখিলের সময়সীমা ৪২ দিনের পরিবর্তে ১০ দিন করতে যাচ্ছে সরকার।
আজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত 'অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি' জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তবে দরপত্র দাখিলের সময়সীমা কমানোর এই নিয়ম কেবল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এই অনিশ্চয়তার মধ্যে জরুরি চাহিদা মেটাতে সরকার এতোদিন 'সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে' (ডিপিএম) বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি করে আসছিল। এ প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার দরকষাকষি করে দাম চূড়ান্ত করে তেল কেনে। কিন্তু ডিপিএম পদ্ধতিতে অন্য সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে এ ধরনের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ থেকে যায়।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনাকাটা করা হলে সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আগ্রহী একাধিক সরবরাহকারী দাম প্রস্তাব করতে পারেন। এতে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয় এবং সরকার সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কেনার সুযোগ পায়। এই সুবিধাটি দ্রুততম সময়ে পেতেই দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সরকারি ক্রয় বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক সচিব মো. ফারুক হোসেন টিবিএসকে বলেন, 'সরকারি ক্রয় আইনের মধ্যেই জরুরি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের ক্ষেত্রে দরপত্র প্রস্তুত ও সাবমিশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৪২ দিনের সময়সীমা কমানোর সুযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতে সরকার তা কমিয়ে ১০ দিন নির্ধারণ করতে পারে।'
টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিয়মাবলি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'দরপত্র সাবমিশনের জন্য ১০ দিন সময় দিয়ে টেন্ডার আহ্বান করার পর নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা না হলে পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে দরপত্র আহ্বান করতে হবে।'
