দু-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি মন্ত্রণালয়
দু-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'বর্ধিত হারে তেল বিতরণ অব্যাহত রাখা হবে এবং এর প্রভাবে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে দেশের সব পাম্পে সব সময় তেল পাওয়া যাবে। এতে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হবে।'
তিনি বলেন, 'আজ সকাল থেকেই পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সারাদেশের ডিপো থেকে বর্ধিতহারে সব ফিলিং স্টেশনকে তেল সরবরাহ করা হয়েছে। ডিপো থেকে তেল নিয়ে ট্যাংক লরিগুলোর পাম্পে যেতে কোথাও দুপুর হয়েছে, কোথাও বিকেল বা সন্ধ্যা হয়েছে। ফলে বিকেল থেকে পাম্পগুলোর সামনে তেলের জন্য গাড়ির লাইন কমতে শুরু করেছে। আশা করি, দু'তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।'
মনির হোসেন চৌধুরী জানান, সোমবার সকালে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি-এসপিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী। সেখানে বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাও যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো পেট্রোল পাম্প মালিক অভিযোগ করেন যে তিনি সরকার ঘোষিত বর্ধিত হারে ডিপো থেকে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পাননি, তাহলে অভিযুক্ত ডিপোর বিরুদ্ধে জ্বালানি বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।'
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে এবং রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য যানবাহনগুলোকে ১২-১৪ ঘন্টা পর্যন্তও সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
শনিবার মধ্যরাত থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ায় সরকার।
দাম বাড়ানোর পরও তেল পেতে ভোগান্তি না কমায় জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনা হতে থাকে। অনেকে সরকারের দেওয়া তেলের মজুদের তথ্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার থেকে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০% এবং অকটেনের সরবরাহ ২০% বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর পরীবাগে মেঘনা মডেল সার্ভিসেস লিমিটেড এ গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো গাড়ির লম্বা লাইন নেই, তেলেরও কোনো সংকট নেই। বিকেল ৫টা পর্যন্ত যেসব গাড়ি ও মোটরসাইকেল পাম্পটিতে প্রবেশ করেছে, তাদের সবাইকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
পাম্পটির সহকারী ম্যানেজার আহমদ রুশদ টিবিএসকে বলেন, 'আগে প্রতিদিন এক ট্যাঙ্ক লরি তেল পাওয়া যেতো, তাতে ১৩,৫০০ লিটার তেল আসতো। সোমবার ডিপো থেকে দুই ট্যাঙ্ক লরিতে ২৭ হাজার লিটার তেল এসেছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত যারা তেল নিতে আসবে, তাদের সবাই তেল পাবে।'
রাজধানীর আসাদগেইটের দু'টি পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য এতদিন গাড়ির দীর্ঘ লাইন চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশের রাস্তা দিয়ে সংসদ ভবনের পূর্ব-উত্তর কোণা পর্যন্ত চলে আসতো।
তবে সোমবার সন্ধ্যায় ৭টার দিকে এই পাম্প দুটি থেকে তেল নেওয়ার গাড়ির লাইন চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন রোড পর্যন্তই পৌঁছায়নি।
