ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন
জ্বালানি তেল পেতে গাড়ি চালক ও বাইকারদের ভোগান্তি কমাতে সরকার অতিক্তি ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ শুরু করলেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য অপেক্ষার লাইন ছোট হয়নি।
পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলেও সকল পাম্পে পর্যাপ্ত তেল না পৌঁছানো পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। এতে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলী, আসাদ গেট, মৎস্য ভবন ও রাজারবাগ এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের লাইন অন্যান্য দিনের মতোই দীর্ঘ।
মৎস্যভবন এলাকার রমনা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লাইন সেগুনবাগিচা, বারডেম হাসপাতাল ঘুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
রাজারবাগ পুলিশ লাইন সংলগ্ন ফির্লিং স্টেশনেও তেল পেতে প্রাইভেট কার ও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পাম্পের মুখ থেকে শুরু হওয়া লাইন রাজারবাগ পীরের বাড়ি সংলগ্ন গলি দিয়ে শান্তিবাগের ভেতরে ঢুকে গেছে।
গাবতলী এলাকার বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল নেওয়ার জন্য প্রধান সড়কে দুই সারি গাড়ি আমিনবাজার সেতু থেকে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত দেখা গেছে। রাস্তাজুড়ে দুই সারি গাড়ি সিরিয়ালে থাকার কারণে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দুপুরের দিকে গাড়ির লাইন অন্যদিনের চেয়ে কিছুটা কমে যেতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, জ্বালানির দাম বাড়ানোর একদিন পর সরকার আজ থেকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ ১০-২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যাতে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল নিতে এসে দীর্ঘসময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরচালকদের ভোগান্তি কিছুটা কমে।
গতরাতে জারি করা এক বার্তায় জ্বালানি বিভাগ জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর অধীন বিতরণকারী কোম্পানিগুলো ২০ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ১৩ হাজার ৪৮ টন ডিজেল, ১ হাজার ৪২২ টন অকটেন এবং ১ হাজার ৫১১ টন পেট্রল বিক্রি করবে। এতে ডিজেল ও পেট্রলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়াতে বলা হয়েছে।
ডিজেলের ক্ষেত্রে পদ্মা অয়েল কোম্পানি পাবে ৪ হাজার ৩৩৩ টন (৩৩.২১%), মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড পাবে ৫ হাজার ৩৯ টন (৩৮.৬২%), যমুনা অয়েল কোম্পানি ৩ হাজার ৬১৭ টন (২৭.৭২%) এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি পাবে ৫৯ টন (০.৪৫%)।
অকটেনের ক্ষেত্রে মেঘনা পেট্রোলিয়াম পাবে সর্বোচ্চ ৫৩৬ টন (৩৭.৬৮%), পদ্মা অয়েল পাবে ৫১৬ টন (৩৬.৩১%) এবং যমুনা অয়েল পাবে ৩৭০ টন (২৬.০১%)।
পেট্রলের ক্ষেত্রে মেঘনা পেট্রোলিয়াম পাবে ৫৪৭ টন (৩৬.১৮%), পদ্মা অয়েল ৫২২ টন (৩৪.৫৭%) এবং যমুনা অয়েল ৪৪২ টন (২৯.২৫%)।
এর আগে, সরকার অকটেনের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা, পেট্রলের দাম ১৯ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়েছে, যা গতকাল (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে।
