জ্বালানি সংকটে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাতেও খোলা চট্টগ্রামের মার্কেট
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শপিংমল ও মার্কেট নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ বাণিজ্যিক এলাকায় আগের নিয়মেই চলছে দোকানপাট।
মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও কঠোর বাস্তবায়নের অভাবে বিধিনিষেধগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, নিউমার্কেট এলাকার শাহ আমানত মার্কেট, গোলাম রসুল মার্কেট, টেরিবাজার, জহুর আহমেদ চৌধুরী হকার্স মার্কেট, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেট, চকবাজারের গোলজার টাওয়ার, কাজির দেউড়ি সিডিএ মার্কেট ও রিয়াজউদ্দিন মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি বড় মার্কেটে স্বাভাবিকভাবেই চলছে বেচাকেনা।
অধিকাংশ মার্কেটে আলোকসজ্জা চালু রেখে বসে আছেন বিক্রয়কর্মী ও ব্যবসায়ীরা। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু বড় মার্কেটেই নয়, আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কাজির দেউড়ি মোড়, এনায়েত বাজার, জুবিলী রোড, নিউমার্কেট এলাকা, লালদীঘির পশ্চিমপাড়, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, মির্জারপুল ও মুরাদপুর এলাকায় ছোট দোকান, রেস্তোরাঁ, কাঁচাবাজার, ফলমূলের দোকান, ইলেকট্রনিক্স ও স্টেশনারি দোকান—সবখানেই ছিল জমজমাট বেচাকেনা। রাস্তার পাশে বসা ভাসমান হকারদের দোকানেও জ্বলছিল লাইট, চলছিল কেনাবেচা।
ব্যবসায়ীরা জানান, গরমের কারণে মানুষ সাধারণত সন্ধ্যার পর বাজার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ কারণেই ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীরাও সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখেন। তাদের দাবি, বাস্তবতার কারণেই এই নির্দেশনা পুরোপুরি মানা সম্ভব হচ্ছে না।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান টিবিএসকে বলেন, "আমাদের মার্কেটগুলো ক্রেতাদের কারণে একটু দেরিতে বন্ধ হচ্ছে। কারণ ক্রেতারা মূলত সন্ধ্যার পরই কেনাকাটা করতে আসেন। অফিস সময় কাস্টমার থাকে না। দিনের বেলায় দোকান খোলা রাখলেও বিক্রি তেমন হয় না।"
তিনি আরও বলেন, "সাম্প্রতিক সময়টা ব্যবসার জন্য ভালো যাচ্ছে না। নানা কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে রয়েছেন। এই অবস্থায় সন্ধ্যার পরের বিক্রিটুকু যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অনেকের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেরিবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, "ব্যবসা না করলে খাব কী? এমনিতেই লোকসানে আছি। সন্ধ্যার পর যা বেচাকেনা হয়, সেটাই মূল ভরসা। এটা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।"
ক্রেতাদের বক্তব্যও প্রায় একই। তারা বলছেন, দিনের ব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যার পরই কেনাকাটার সুযোগ পান।
জহুর আহমেদ চৌধুরী হকার্স মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী ফয়সাল আহমেদ বলেন, "অফিস শেষে এই সময়টাতেই আমরা বাজার করতে পারি। অনেকদিন ধরে কেনাকাটা বাকি ছিল, আজ এসে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনলাম। দিনের বেলায় আসার সুযোগ হয় না।"
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, "সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে মাইকিং করে বিষয়টি জানিয়েছি। কিছু মার্কেট আলোকসজ্জা কমিয়েছে, তবে অনেকেই এখনো নির্দেশনা মানছেন না।"
তিনি আরও বলেন, "যদি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তারা এমনটি করে থাকে, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
