সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এই সময়ে ফ্লাইট বাতিলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ওই অঞ্চলের বিদ্যমান অনিশ্চয়তার কারণে এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দরগুলোকে এখনো কিছু সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাওয়ায় ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে।
ঢাকা বিমানবন্দরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চের মধ্যে ৩৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এরপর ১০ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৭৫-এ। পরের ১০ দিনে (২০ থেকে ২৯ মার্চ) তা আরও কমে ২২৬টি এবং ৩০ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে ১৬০টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
এছাড়া যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ফ্লাইট বাতিলের হার ব্যাপকভাবে কমেছে। ৯ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে মাত্র ৬০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে সব মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৬০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
কর্মকর্তারা জানান, বিরাজমান অনিশ্চয়তার কারণে ১০ ও ১১ এপ্রিল ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও মাস্কাট রুটের ফ্লাইটও ছিল।
ফ্লাইট বাতিল হলেও এই দুই দিনে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ১৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অবতরণ এবং ১১টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে, যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে আগের চেয়ে নিয়মিতভাবে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে মোট ২৯৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা ঢাকা বিমানবন্দরের তুলনায় ৭৬৩টি কম।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ফ্লাইট বাতিলের হার লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। 'দুবাই রুটে এখন প্রায় নিয়মিতই ফ্লাইট চলছে, তবে দোহা রুটে এখনো কিছুটা বিঘ্ন রয়ে গেছে।'
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইটের সংখ্যা বর্তমানে কিছুটা কম রাখা হয়েছে। কিছু নৈশকালীন ফ্লাইটও এখনো সীমিত। তবে দুবাই ও আবুধাবিসহ অধিকাংশ রুটেই এখন বিমান চলাচল সচল রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের চাহিদাও এখনো পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। চলমান অনিশ্চয়তার কারণে বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশে নতুন করে কর্মী পাঠানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিক চাপ কমিয়ে দিলেও ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করবে ওই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার ওপর।
