গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে চট্টগ্রামে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ১১ দলের
গণভোটের রায় ও 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন করা না হলে রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা এই ঘোষণা দেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল বলেন, "আমরা জান দেব, কিন্তু জুলাই দেব না। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে; তারা আর কোনো ফ্যাসিস্ট এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি দেখতে চায় না।"
ভারতকে ইসরায়েলের বন্ধু উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। যারা জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি করবে, তাদের এ দেশের মাটিতে টিকতে দেওয়া হবে না। সংসদে যদি এই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে রাজপথেই এর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, "চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় কিছু নেতৃবৃন্দ দেশের বাইরে থাকায় তাঁরা রাজপথের বাস্তবতা অনুভব করতে পারেননি। যারা ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থিত গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন, তারা নতুন স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।"
তিনি আরও বলেন, একই নির্বাচনী শিডিউলের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তার অর্ধেক মেনে নেওয়া এবং বাকি অর্ধেক প্রত্যাখ্যান করা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে, নতুবা পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে—এর বাইরে কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপিকে বিগত ১৭ বছরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় জনগণ তাদের পাশে ছিল। কিন্তু এখন গণবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সেই সমর্থন আর পাওয়া যাবে না। জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হলে অবিলম্বে জনরায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক ও জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, খেলাফত মজলিস নগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শিহাব উদ্দিন, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন—খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল পার্টির মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, লেবার পার্টির মহানগর সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, মুহাম্মদ শফিউল আলম ও ডা. আবু নাছের প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
