তেলসংকটের অজুহাতে চট্টগ্রামে গ্যাসচালিত যানেও ভাড়া দ্বিগুণ, পরিবহন সংকটে নগরবাসীর ভোগান্তি
চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে গ্যাসচালিত যানবাহনেও অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। এতে ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) ঈদের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে পরিবহন সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মজীবী মানুষ।
সরজমিনে দেখা যায়, নগরীর হামজার বাগ, ২ নাম্বার গেইট, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও চকবাজার এলাকায় অসংখ্য যাত্রী গাড়ির অপেক্ষা করছেন। রাস্তায় গাড়ি চলাচল করলেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম। আর তাই গাড়ি আসতেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ কমতে থাকে।
বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাফায়েত হোসেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'তেল সঙ্কটের কারণে যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম। তাই যাত্রীদের গাড়ি পেতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। আমি নিজেও অনেক্ষণ দাড়িয়ে থেকে গাড়ি পেয়েছি।'
যাত্রীদের অভিযোগ, তেলের সংকটের অজুহাতে চালকেরা নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ পর্যন্ত দাবি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট হার না মেনে ইচ্ছেমতো ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংকটের প্রভাব পড়েছে রাউজান, হাটহাজারী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়া ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায়। শহরের ভেতরেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
কাপ্তাই সড়কে ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র আরও প্রকট। যাত্রীরা জানিয়েছেন, পাহাড়তলী থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত যেখানে আগে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া ছিল, সেখানে এখন ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়তি চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
রাউজান থেকে নতুনপাড়া আমতলা পর্যন্ত যাতায়াতকারী এক যাত্রী জানান, আগে যেখানে ২০ টাকা ভাড়া ছিল, এখন সেখানে ৪০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা, কারণ বিকল্প যানবাহনেরও সংকট রয়েছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতেও সিএনজি-অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। কর্ণফুলী থেকে আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী বাজার পর্যন্ত ১০০ টাকার ভাড়া দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। একইভাবে চাতরী চৌমুহনী থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ৪০ টাকার ভাড়া এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীরা বলছেন, এই রুটগুলো ছাড়াও পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে মনগড়া ভাড়া আদায় করছেন। বিশেষ করে রিজার্ভ ভাড়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ভাড়া নিয়ে চালকদের এই অরাজকতা এখন সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিএনজি চালকরা জানান, গ্যাসের সংকট না থাকলেও তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে তারা স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ যাত্রী উঠানামা করতেন, তা এখন সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা ভাড়া একটু বেশি নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম রাঙ্গামটি বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম টিবিএসকে বলেন, 'আমাদের পর্যাপ্ত গাড়ি রাস্তায় আছে। তেল বা গাড়ির সংকট নেই। সাপ্তাহের প্রথম দিন তাই হয়তো যাত্রীদের একটু চাপ রয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীদের কাছে থেকে নেওয়া হচ্ছে।'
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান টিবিএসকে বলেন, 'আমাদের তেল পেতে কষ্ট হচ্ছে। ফলে রাস্তায় এখন পরিবহন সংকট রয়েছে। আগে যাত্রী কম থাকলেও একটা গাড়ি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেত। এখন একটা গাড়ি মুভ করার আগে ড্রাইভারদের চিন্তা করতে হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'তেলের প্রভাবের কারণে এখন রাস্তায় বাস-মিনি বাস কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ভাড়া আগের নিয়মেই চলছে। অনেক ড্রাইভার হয়তো বেশি ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে।'
