সীতাকুণ্ডে চলন্ত ট্রেনে আগুন: ৪ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত অবস্থায় ঢাকামুখী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি পাওয়ার কারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আরেকটি লাইন সচল থাকায় ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পৌনে ৭টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে তথ্যমতে, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ১৭টি বগি নিয়ে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিএমএ গেট এলাকায় পৌঁছালে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি বগির সামনে থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বগি (পাওয়ার কার) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব–অফিসার আহসান হাবিব বলেন, "সকাল সাতটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি পাওয়ার কারে আগুন জ্বলছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের পৌঁছানোর আগেই ট্রেনের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা মিলে অক্ষত বগিগুলো বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যান।"
রেল পুলিশের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, "ট্রেনটি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিএমএ গেট এলাকায় পৌঁছালে একটি পাওয়ার কারে আগুন ধরে।"
তিনি বলেন, "একজন বয়স্ক যাত্রী ওয়াশরুমে গিয়ে প্রথম আগুন দেখতে পান। পরে তিনি অন্যদের জানালে ট্রেন থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। ট্রেন থামার পর যাত্রীরা দ্রুত নেমে যান।"
এ কর্মকর্তা আরও জানান, "আগুন লাগা বগি ও পাশের একটি বগি বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। নতুন বগি সংযুক্ত করে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে।"
স্থানীয়রা জানান, যাত্রীরা চিৎকার করছিলেন। তাদের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন তারা।
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় বিএমএ গেট এলাকায় ঢাকামুখী লাইনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও বিকল্প লাইনে চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান টিবিএসকে বলেন, পাওয়ারকার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে। কারণ অনুসন্ধানে ইন্সপেকশন করা হয়েছে। ডাউনলাইন ক্লিয়ার থাকায় ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটিও চার ঘণ্টার পর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
