ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কবলে ঢাকা, নাকাল নগরবাসী; বিভিন্ন স্কুলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নগরবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অনুকূল আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে আগামী অন্তত দুই দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ১৪-১৫ জুলাইয়ের দিকে রাজধানীতে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল হক জানান, আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া, গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা ২৪ ঘণ্টায় ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় উড়াল সড়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।
তাছাড়া, টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে আজ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অভিভাবক শেখ আবদুল্লাহ জানান, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আজকের নির্ধারিত হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে রাজধানীর কাকরাইলের লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাসও বৃষ্টির কারণে স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক আবুল কাসেম জানান, সকালে ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও পরে অভিভাবকদের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে বৃষ্টির কারণে ক্লাস স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।
কেরাণিগঞ্জের সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অভিভাবক জলি আক্তারও জানান 'রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। স্কুল থেকে জানিয়েছে আজকের ক্লাস স্থগিত।'
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আরং মোড়, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি ও মিরপুরের কাজীপাড়া। এমনকি অনেক এলাকার গলির প্রবেশপথও পানিতে ডুবে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল হক জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, সাগরের ওপর অবস্থানরত একটি লঘুচাপ এবং বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আগামী দুই দিন দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তবে ১৪-১৫ জুলাইয়ের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে শুরু করবে। এ সময় দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে।
মমিনুল হক আরও বলেন, ৫ জুলাইয়ের পর থেকে মাত্র চার দিনে চট্টগ্রামে প্রায় এক হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এত অল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার এই বৃষ্টিপাতকে তিনি এল নিনোর প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একই ধরনের পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারত, চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু বর্তমানে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় আগামী অন্তত দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।
এদিকে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
