চট্টগ্রামে আবারও ভারী বৃষ্টি, ১২ ঘণ্টায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি
চট্টগ্রামে এক দিনের বিরতির পর আবারও শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শেষ ১২ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১২৯ মিলিমিটার। তিনি আরও জানান, এই বৃষ্টি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
গত ৪ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ১৫ হাজার ৯১১ দশমিক ১৬ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫৩টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর, দিঘি ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে যাওয়ায় ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে নগরীর আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গত দুই দিন বৃষ্টি কমায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও নতুন করে শুরু হওয়া এই বর্ষণে আবারও ব্যাপক জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
