পাঁচ দিন পর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে আবারও ট্রেন চলাচল শুরু
টানা বৃষ্টি ও কয়েক দিনের জলাবদ্ধতায় পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে আবারও ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটন এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে।
এর আগে সকাল সোয়া ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা মো. ফারহান মাহমুদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। যেসব স্থানে সমস্যা ছিল, সেগুলোর মেরামতকাজ শেষ হয়েছে। আজ থেকে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।'
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ষোলশহর–দোহাজারী সেকশনের জান আলী হাট স্টেশনের প্রায় ১ কিলোমিটার পূর্বে শমসের পাড়া এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার রেলপথ পানিতে তলিয়ে যায়। সেখানে রেললাইনের ওপর সর্বোচ্চ ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
বন্যার পানির স্রোতে রেললাইনের নিচের কিছু পাথর (ব্যালাস্ট) সরে গেলেও মূল রেললাইন বাঁকা বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পরে রেলের প্রকৌশল দল ঘটনাস্থলে মেরামতকাজ চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০০ মিটার রেলপথ স্থানভেদে সর্বোচ্চ দেড় ফুট পর্যন্ত উঁচু করা হয় এবং সরে যাওয়া পাথর পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে টানা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নগরীর মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসাসহ কয়েকটি এলাকায় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যায়।
মঙ্গলবার কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় আট ঘণ্টা ষোলশহর স্টেশনে আটকে থাকার পর চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ওই ট্রেনের কক্সবাজার যাত্রা বাতিল করা হয়। জলাবদ্ধতার কারণে মোট চারটি ট্রেনের যাত্রা বিঘ্নিত হয়।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী সৈকত এক্সপ্রেসের যাত্রা পুরোপুরি বাতিল করা হয়। এছাড়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের চট্টগ্রাম–কক্সবাজার অংশের যাত্রা বাতিল করে বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে রেলওয়ে।
গত বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। সে সময় তিনি বলেন, 'যাত্রীদের নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রেললাইনের কোথাও কোথাও প্রায় দুই ফুট পানি জমেছে। এ অবস্থায় ট্রেন চালানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।'
