টানা বৃষ্টিতে টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্য মা হাতিটি মারা গেছে
কক্সবাজারের টেকনাফে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার প্রায় এক দিন পর রোববার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটি মারা যায়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (টেকনাফ-উখিয়া) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি টিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন।
বন বিভাগ জানায়, শনিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে আংশিক ধস সৃষ্টি হয়। এ সময় পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় হাতিটিকে দেখতে পেয়ে বন বিভাগকে খবর দেন। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন।
মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিবৃষ্টির কারণে খাবারের সন্ধানে হাতিটি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছিল। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে অন্য কোনো হাতির পাল দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি এলাকার কোনো পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হাতিটি ওই এলাকায় চলে এসেছিল।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় হাতিটির মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এতে পেছনের দুটি পা অচল হয়ে পড়ে এবং পেটে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ার সময় গাছ ও পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় আঘাত আরও গুরুতর হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, টেকনাফ উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হাতিটির চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় থাকায় হাতিটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাহাড়টি পাথুরে হওয়ায় নিচে গড়িয়ে পড়ার সময় হাতিটির মাথায়ও আঘাত লেগে থাকতে পারে। গত এক দশকে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় পা পিছলে বা পাহাড়ধসের কারণে বন্য হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার আঘাতের মাত্রা ছিল বেশি।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর। হাতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট। শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় এলাকায় বর্তমানে অন্তত ২৩টি এশীয় হাতির বিচরণ রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আনিক চৌধুরী জানান, পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ভেটেরিনারি দল ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ময়নাতদন্ত শেষে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাতিটিকে বনাঞ্চলের নির্ধারিত স্থানে দাফন করা হবে।
