টেকনাফে পাহাড় ধসে খাদে পড়ে গুরুতর আহত বন্য হাতি
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় ধসে খাদে পড়ে এশীয় প্রজাতির একটি বন্য হাতি গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং রেঞ্জের উঠন্তি পাহাড়ের শিয়াইলাগোনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের উঠন্তি পাহাড় এলাকায় ভূমিধসের পর পূর্ণবয়স্ক হাতিটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (টেকনাফ-উখিয়া) মো. মনিরুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। পাহাড় থেকে নামার সময় মাটি ধসে হাতিটি পাহাড়ের ঢালু জায়গায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। এশীয় প্রজাতির এই হাতিটি আনুমানিক ১০ বছর বয়সী স্ত্রী হাতি।'
তিনি বলেন, 'আহত হাতিটির আশপাশে কোনো হাতির পাল দেখা যায়নি। অতিবৃষ্টির কারণে ধারণা হয়তো খাবারের খোঁজে এটি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে হাতিটি জীবিত আছে। তবে তার শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে। পেটের দুটি অংশ ফেটে গেছে এবং পেছনের একটি পা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাতিটির শারীরিক অবস্থা ও পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।'
বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, 'হাতিটির চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ একটি দল সেখানে পৌঁছেছেন। এছাড়াও ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসককে ঘটনাস্থলে আনা হচ্ছে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।'
বন বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান, আহত হাতিটি কোনো পালের অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাহাড়ি এলাকায় থাকা হাতির পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাঝে মাঝে কিছু হাতি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে।
তিনি বলেন, 'টানা বৃষ্টির কারণে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আহত হাতিটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
