সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলা, আহত ৪
ঢাকা সাভরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের পৌর এলাকায় তারাপুর মাঠে সমাবেশ চলাকালীন মঞ্চের সামন ককটেল হামলা হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি শুরু করেন।
সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাসান জানান, এ ঘটনায় ৪ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, এনাম মেডিক্যাল কলেজের স্টার মো. শাহীন খান্দকার (৩০), এনাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী মো. জসিম (২৬) ও মো. শাহাদাত হোসেন (৪০)। বাকি একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
পরে রাত ১০টায় সমাবেশ শেষ করে এনসিপির নেতা-কর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও এমপি নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে কর্মসূচি করার। এখানকার পুলিশ-প্রশাসনের দায়িত্ব সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। এই পুলিশ-প্রশাসন ও এই এলাকার এমপি জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, কে বোমা হামলা করেছে, কী হয়েছে তা আমরা জানি না। আমরা জানি এর দায় হচ্ছে প্রশাসনের এবং কর্তৃপক্ষের। সন্ত্রাসীরা কীভাবে পুলিশ-প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বোমা হামলা করার সুযোগ পেল, আমরা সেটা জানতে চাই।
নাহিদ আরও বলেন, আমরা জানি এই এলাকায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের সঙ্গে জড়িত। আমরা জানি কারা দুর্নীতি-সন্ত্রাস আর মাদক কারবারি সঙ্গে জড়িত। তারা ভেবেছিল হামলা করে আমাদের আন্দোলনকে থামিয়ে দেবে। এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। আমাদের জীবন গেলে রাজপথেই যাবে।
পরে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে থানার ভেতরে প্রবেশ করেন এমপি নাহিদ। এ সময় থানার সামনে অবস্থানরত নেতা-কর্মীরা সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।
এ ঘটনায় এখনো সাভার মডেল থানা কিংবা জেলা পুলিশের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য নেতার সমাবেশস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও যানজটের কারণে তারা রাত সাড়ে ৯টার দিকে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। তারা সমাবেশের মঞ্চে ওঠার আগ মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
