দুই দলের কেউই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না, সবাই-ই ফাইনাল খেলতে চায়: ইংল্যান্ড কোচ
১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে সেই স্বপ্ন ভাঙল তাদের। তবে ফাইনালে উঠতে না পারলেও হ্যারি কেইনের সামনে এখন সুযোগ আছে অন্তত তৃতীয় স্থান অধিকার করার। এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণীর ম্যাচে ১৯ জুলাই তারা মাঠে নামবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে।
এই ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলেছেন, ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা এতটাই বড় যে, দুই দলের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না।
সেমিফাইনালে লিওলেন মেসিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় কেইনরা। আর সেমিফাইনালের অপর ম্যাচে লামিনে ইয়ামালদের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার দৌড় থেকে ছিটকে যায় এমবাপ্পেরা।
সেমিফাইনালে হারের পর ইংলিশ কোচ টুখেল সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। একই কথা ফ্রান্সের খেলোয়াড়দেরও।'
তিনি আরও বলেন, 'সবাই ফাইনাল খেলতে চায়। সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। প্রতিটি দলই বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ফ্রান্সের তুলনায় আমাদের বিশ্রামের সময়ও এক দিন কম। তবু আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে ম্যাচটি খেলব।'
'প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি'
সেমিফাইনালে ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের ক্রস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। এর পর পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন টমাস টুখেল। কিন্তু উইং ব্যবহার করে ইংলিশ রক্ষণকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ। আর এই রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন টমাস টুখেল।
সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ওয়েইন রুনির মতে, অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ায় আর্জেন্টিনা আরও বেশি চাপ তৈরি করার সুযোগ পায়। যার ফলে শেষ পর্যন্ত তারা দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসতে পেরেছে।
সমালোচনার মুখে থাকা টমাস টুখেল অবশ্য বলছেন, 'সেমিফাইনালে ওঠাটাই অবশ্যই একটি বড় অর্জন। বিশ্বের অনেক শক্তিশালী ফুটবল দলও শেষ চারে পৌঁছাতে পারে না। এটা নিঃসন্দেহে সাফল্য। কিন্তু এই মুহূর্তে কেউই সেটা শুনতে চাইবে না—আমিও না। কারণ, আমরা নিজেদের কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করি।'
