শিরোপা ধরে রাখতে খেলছে আর্জেন্টিনা; কিন্তু তাদের হার চেয়ে কেন গলা ফাটাচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলো?
চার বছর পরপর বিশ্বকাপ আসে, তার সঙ্গে ফিরে আসে এক চেনা রেওয়াজ। নিজেদের দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলে সমর্থকরা সাধারণত কোনো প্রতিবেশী দেশকে সমর্থন দিতে শুরু করেন। যেমন ধরুন এবারের কথাই। সুইডেন ছিটকে যাওয়ার পর তাদের বহু সমর্থক নরওয়ের দিকে ঝুঁকেছেন। মরক্কোর বিশ্বকাপ-দৌড়ে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও এমনটাই দেখা গেছে।
কিন্তু লাতিন আমেরিকায় ছবিটা একেবারে উল্টো। টুর্নামেন্টে টিকে থাকা এ অঞ্চলের একমাত্র দল আর্জেন্টিনার কপালে জুটছে না বিন্দুমাত্র আঞ্চলিক সংহতি। বুধবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে তারা। অন্যান্য লাতিন আমেরিকান ভক্তদের সমর্থন পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো আর্জেন্টিনা এখন এমন এক দলে পরিণত হয়েছে যাদের হার দেখতে সবাই উদগ্রীব।
কলম্বিয়ার বোগোতার বাসিন্দা, ২৮ বছর বয়সি মার্কেটিং স্পেশালিস্ট নেস্টর ইবারা। তিনি বললেন, তার ইকুয়েডরিয়ান ও পেরুভিয়ান বন্ধুরা 'আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া' যেকোনো দলকে সমর্থন করছেন। সেই দলটি হয়তো কলম্বিয়াকে হারিয়েই উঠে এসেছে, কিন্তু তাতেও তাদের আক্ষেপ নেই।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কলম্বিয়ার বিদায়ের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া মিম ও রসিকতায় সয়লাব। সেখানে ফলাও করে বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার আর কোনো দেশই টিকে নেই। তাদের দাবি, আর্জেন্টিনা যতটা না লাতিন আমেরিকান, তার চেয়ে বেশি ইউরোপীয়। সমর্থকরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার চেয়ে বরং নরওয়ের জন্য গলা ফাটানো অনেক বেশি শ্রেয়।
সমর্থকদের এই মানসিকতার শেকড় লুকিয়ে আছে এ অঞ্চলেরই এক গভীর, বহু পুরনো সমীকরণে।
ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে আর্জেন্টাইনদের দীর্ঘদিনের সুখ্যাতি। সেইসঙ্গে প্রতিবেশীদের থেকে নিজেদের একটু আলাদা বা স্বতন্ত্র ভাবার একটা প্রবণতাও রয়েছে তাদের মধ্যে। এর অন্যতম কারণ হলো জনবিন্যাস—আর্জেন্টিনার জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ স্পেন ও ইতালির মতো ইউরোপীয় দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের বংশধর। অন্যদিকে ব্রাজিলে দেখা যায় বিপরীত চিত্র। আফ্রিকার বাইরে সবচেয়ে বেশি আফ্রো-বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস ব্রাজিলেই।
৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষের দেশ আর্জেন্টিনা। এই মুহূর্তে তারা একাধারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন। আর দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তাদের এই সাফল্যই প্রতিবেশীদের মনে ঈর্ষা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কারণ এই শিরোপাগুলো জিততে গিয়ে লাতিন আমেরিকার অনেক দেশকেই হারিয়েছে তারা।
আর্জেন্টিনায় ফুটবল রীতিমতো অবসেশন। জাতীয় দল থেকে শুরু করে পেশাদার লিগ, এমনকি পাড়ার বিনোদনমূলক ক্লাব—সব জায়গাতেই ফুটবলের এই উন্মাদনা চোখে পড়ে। বিশ্বকাপে দলের খেলা মাঠে বসে দেখার রীতিমতো চাকরি ছেড়েছেন বা নিজের সাধের গাড়িটুকু বিক্রি করে দিয়েছেন—আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ক্ষেত্রে এমন পাগলামি নতুন কিছু নয়।
আর্জেন্টাইনদের এই ফুটবল-উন্মাদনা, এবং তা থেকে প্রতিবেশীদের মনে জন্ম নেওয়া হতাশার বিষয়টি চমৎকার ফুটে উঠেছিল ফার্নেট-ব্রাঙ্কার এক ভাইরাল বিজ্ঞাপনে। ইতালীয় অভিবাসীদের হাত ধরে আর্জেন্টিনায় আসা এই বিখ্যাত মদের ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন শুরু হয় একটি গ্রুপ-থেরাপি সেশনের দৃশ্য দিয়ে। সেখানে দেখা যায়, অন্যান্য দেশের সমর্থকরা গোল হয়ে বসে আর্জেন্টিনা আর তাদের উন্মত্ত ভক্তদের নিয়ে নালিশ ঠুকছেন। পরের দৃশ্যেই দেখা যায় মেক্সিকান, উরুগুইয়ান ও ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা প্রাণপণে প্রার্থনা করছেন—তাদের চিরশত্রু যেন আর কোনোভাবেই জিততে না পারে।
ওই বিজ্ঞাপনের নেপথ্যে থাকা আর্জেন্টাইন প্রতিষ্ঠান জুরদা এজেন্সির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার দিয়েগো গুয়েলার মন্তেরো বলেন, 'আমরা ভালো করেই জানি যে আমরা ভীষণ একরোখা আর অসহ্য। আর আমরা বিশ্বকাপ জেতার পর এই চার বছর ধরে তো টানা উদযাপন লেগেই আছে।'
মন্তেরো মনে করেন, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের এই বাঁধভাঙা আবেগ ও উন্মাদনার শেকড় লুকিয়ে আছে দেশটির ইতালীয় ঐতিহ্যে, বিশেষত দক্ষিণ ইতালির সংস্কৃতিতে। তার মতে, আর্জেন্টাইনরা 'ভীষণ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। আর যেসব জিনিসে আমরা ভালো, সেটা আমরা একটু বেশিই জাহির করতে পছন্দ করি।'
সমালোচকরা বলছেন, আর্জেন্টাইনদের এই ইউরোপ-কেন্দ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার নগ্নভাবে ধরা পড়েছে এই গ্রীষ্মে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মেক্সিকো যখন বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল, তখন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক এদুয়ার্দো ফেইনম্যান লাইভ টিভিতে মন্তব্য করেন: 'আমি মেক্সিকানদের ঘৃণা করি, অন্তর থেকে ঘৃণা করি...শুধু ফুটবল নয়, সব কিছুতেই ওরা আমাদের দেখে ঈর্ষায় ভোগে।'
মেক্সিকো সিটির পোশাক ব্যবসায়ী, ৫৫ বছর বয়সি রবের্তো গার্সিয়া বলেন, 'আর্জেন্টিনা জিতুক, এটা আমি কোনোভাবেই চাই না। যে দলের আচরণে এমন আধিপত্যবাদ আর বর্ণবাদের দুর্গন্ধ, তাদের জন্য কারও মনে সহযোগিতা জন্মাতে পারে?'
ফেইনম্যানের এই মন্তব্য এতটাই তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় যে খোদ মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লাডিয়া শিনবম এর কড়া সমালোচনা করেন। মন্তব্যটিকে তিনি আখ্যা দেন 'ভয়াবহ' বলে।
পরে অবশ্য ফেইনম্যান দাবি করেন, তার কথাগুলো সাধারণ মেক্সিকান জনগণের উদ্দেশে ছিল না। তবে একইসঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট শিনবমকে খোঁচা দিয়ে বলেন—তার বরং আরও বড় সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানো উচিত, যেমন মাদক চোরাচালান, সহিংসতা ও দুর্নীতি দমন।
আর্জেন্টিনার বর্ণবাদী মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে সমালোচকরা অতীত খুঁজে বের করেছেন দেশটির সাবেক এক রাষ্ট্রনেতার পুরনো মন্তব্য। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ বলেছিলেন, 'মেক্সিকানরা এসেছে ইন্ডিয়ানদের থেকে, ব্রাজিলিয়ানরা এসেছে জঙ্গল থেকে, আর আমরা আর্জেন্টাইনরা এসেছি জাহাজে চড়ে... ইউরোপ থেকে।'
সম্প্রতি মেক্সিকো সিটিতে এক বিশ্বকাপ ফ্যান ফেস্টিভ্যালে মেক্সিকোর জার্সি গায়ে হাজির ছিলেন ৪৩ বছর বয়সী কোনি রেয়েস ও ৩০ বছর বয়সি ইসাবেল কিন্তেরো। তারা বললেন, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বানানো মিম তাদের বেশ মজাই দেয়।
রেয়েস বলেন, আর্জেন্টাইনদের আচরণে একটা 'নাকউঁচু' ভাব দেখা যায়। (সম্প্রতি এক আর্জেন্টাইন টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার তো বলেই বসেছেন, মেক্সিকানরা আর্জেন্টিনাকে হিংসে করে, আর সেটা শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নেই।)
কলম্বিয়ান নাগরিক ইবারা বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি আসলে আর্জেন্টিনারই জয় চেয়েছিলেন, কারণ তখনো পর্যন্ত মেসির হাতে বিশ্বকাপ ওঠেনি। কিন্তু তারপর থেকে সেই ভালো লাগায় ভাটা পড়েছে। যেসব আর্জেন্টাইন সমর্থকের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে, তাদের আচরণ এবং খোদ আর্জেন্টিনা জাতীয় দল—সবার ওপরই তিনি তিতিবিরক্ত। তার মনে হয়েছে, প্রতিপক্ষ হিসেবে কলম্বিয়াকে নিচু নজরে দেখে তারা। এছাড়া অনেক আর্জেন্টাইন যেভাবে নিজেদের লাতিন আমেরিকান না ভেবে ইউরোপীয় হিসেবে তুলে ধরতে চায়, সেটাও তার চরম অপছন্দ।
ব্রাজিলের টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার ও সম্পাদক হেনরিক পোর্তো বলেন, আর্জেন্টিনা দল নিয়ে তার অনুভূতি মিশ্র। মেসি আর দলটির খেলার ধরন তার পছন্দ। কিন্তু সেইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। ব্রাজিলে গিয়ে অতীতে কিছু আর্জেন্টাইন সমর্থক যে ধরনের বর্ণবাদী আচরণ করেছিল, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পোর্তো।
'আমরা কোনোভাবেই ওদের সমর্থন করতে পারি না,' বললেন পোর্তো। কথার ফাঁকে এ-ও মনে করিয়ে দিলেন যে, ব্রাজিলের ঝুলিতে রেকর্ড পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা রয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনার আছে তিনটি।
২০২৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকায় কলম্বিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা এমন একটি গান গাইছেন, যাকে 'অগ্রহণযোগ্য, বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক' বলে নিন্দা জানিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন।
ফরাসি ফুটবলারদের আফ্রিকান শেকড় নিয়ে বিদ্রুপ করা ওই স্লোগান মূলত ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে চালু করেছিল কিছু আর্জেন্টাইন সমর্থক। অবশ্য যে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ওই গান গাওয়ার ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, তিনি পরে এর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
অন্যান্য দেশের সমর্থকরাও মাঠে কিছু আর্জেন্টাইন ভক্তের দুর্ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সম্প্রতি জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান স্ট্রিমার 'আইশোস্পিড'-এর সঙ্গে আর্জেন্টাইন ভক্তদের বর্ণবাদী আক্রমণের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। এক ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে এক নারী কেপ ভার্দের জার্সি পরা আইশোস্পিডকে বলছেন, 'চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো!'
বৈচিত্র্যে ভরপুর এ অঞ্চলে আর্জেন্টিনা নিজেদের পরিচয়কে ঠিক কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেই পুরোনো বিতর্ককে আবারও উসকে দিয়েছে এসব ঘটনা। উনিশ ও বিশ শতকে দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল সরকার। এর মূল লক্ষ্য ছিল নিজেদের নিখাদ শ্বেতাঙ্গ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরা।
ফুটবলের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিশ্লেষক হিসেবে জনপ্রিয় আর্জেন্টাইন সাহিত্যের অধ্যাপক মার্তিন কোহান বলেন, আর্জেন্টাইনদের রক্তে মূলত মিশ্র ঐতিহ্যই প্রবহমান। প্রমাণ হিসেবে তিনি দেশটির আরেক কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রসঙ্গ টানলেন।
কোহান বলেন, 'আমরা ইউরোপীয় দেশ নই। আমাদের দেশে ইউরোপীয় অভিবাসীদের এক বিশাল ঐতিহাসিক স্রোত এসে মিশেছে।' তিনি আরও বলেন, লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের মতোই আর্জেন্টিনাও প্রতিনিয়ত অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে।
'আমার নিজের শেকড়ও ইউরোপীয় অভিবাসীদের মধ্যেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আর্জেন্টিনা লাতিন আমেরিকান দেশ নয়। একটা ভ্রান্ত মিথ দাঁড় করানো হয়েছে, যার কড়া প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, অন্যান্য দেশের অনেকেই এই ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।'
কোহান আরও বলেন, ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ও রাজধানী বুয়েনস আইরেস তার ইউরোপীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত ঠিকই, কিন্তু এটি কোনোভাবেই পুরো আর্জেন্টিনার সামগ্রিক চিত্র নয়। ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর মানুষ আদিবাসী ভাষায় কথা বলে, তাদের রীতিনীতিও সম্পূর্ণ আলাদা।
৩৫ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন পালোমা ইরিবারেন পেশায় বিজ্ঞাপন কর্মী। গত সাত বছর ধরে মেক্সিকোতেই থিতু হয়েছেন তিনি। অন্যান্য লাতিন আমেরিকানরা যেভাবে তার দেশের জাতীয় দলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাতে রীতিমতো বিস্মিত পালোমা।
মেক্সিকোতে বসবাসকারী অনেক আর্জেন্টাইনের স্বভাব ঠিক এমনটা না হলেও পালোমা ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি জানালেন, মেক্সিকো যতক্ষণ না আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি নিজের এই 'দত্তক' নেওয়া দেশের জন্যই গলা ফাটিয়েছেন। মেক্সিকো ও তার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই এমনটা করেছেন তিনি।
"কিন্তু তিন-তিনটা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, যারা একসময় আমাদের সবার ওপর উপনিবেশ বিস্তার করেছে, তাদের পাশে সেমিফাইনালে থাকা একমাত্র লাতিন আমেরিকান দেশ আর্জেন্টিনা। এখানেই আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়,' সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড, স্পেন ও ফ্রান্সের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন পালোমা। 'আমরা এমন একটা শক্তির বিরুদ্ধে মাঠে নামতে যাচ্ছি, যারা এককালে আমাদের মাটি দখল করে রেখেছিল। আর আমাদের লাতিন আমেরিকান ভাইবোনেরাও তো আমাদের মতোই অত্যাচার সহ্য করেছে। অন্তত এই জায়গাটা থেকে কি ওরা একটু সহানুভূতি দেখাতে পারে না?'
তবে লাতিন আমেরিকার সবাই যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, বিষয়টা পুরোপুরি তেমনও নয়। পুরো অঞ্চলজুড়েই আর্জেন্টিনার জার্সি, বিশেষ করে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরা মানুষের দেখা মেলে অহরহ।
আর্জেন্টিনা যখন আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার খোঁজে দুরন্ত গতিতে ছুটছে, তখন লাতিন আমেরিকার ফুটবল আড্ডায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: টুর্নামেন্টে তারা কি আসলেই সেরা দল ছিল, নাকি ভাগ্য আর চারপাশের পরিস্থিতি তাদের বেশি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে।
