মধ্যপ্রাচ্য সংকট: চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ১৩ দিনে ১০৫ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত ১৩ দিনে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ১০৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মূলত আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে ফ্লাইট শিডিউলে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে দুবাই, আবুধাবি এবং শারজাহ বিমানবন্দরগুলো বর্তমানে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে দোহার বিমানঘাঁটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় ফ্লাইট পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই থেকে আগত দুটি এবং চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই দিনে মধ্যপ্রাচ্য রুটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি আগমনী ও একটি বহির্গামী ফ্লাইটও বাতিল করা হয়।
ফ্লাইট চলাচলে এমন বিঘ্ন ঘটলেও কিছু কিছু গন্তব্যে যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের মধ্যে নির্ধারিত ৪টি আগমনী ও ৬টি বহির্গামী ফ্লাইট সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এয়ার অ্যারাবিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের শারজাহ-চট্টগ্রাম ও দুবাই-চট্টগ্রাম রুটের ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এছাড়া জেদ্দা, মদিনা ও মাস্কাট রুটে ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক রয়েছে।
বিমানবন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইট বাতিল শুরু হয়। বৃহস্পতিবারের ৫টি সহ গত ১৩ দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বমোট ১০৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
