ঈদ সামনে রেখে ঢাকায় বেড়েছে পোলাও চাল, রসুন, মাছ ও মুরগির দাম
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করেছে পোলাও রান্নায় ব্যবহৃত চিনিগুঁড়া চাল, চায়না রসুন, মাছ ও মুরগির দাম।
কয়েকদিনের ব্যবধানে চিনিগুঁড়া চাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চায়না রসুন কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। তবে দেশি রসুনের দাম কমে প্রতি কেজি ৬০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ছিল ৮০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদার কারণেই এসব পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) রাজধানীর হাতিরপুল, লালবাগ ও নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা গৃহিণী আদিবা বলেন, "পোলাওয়ের চালের দাম শুনে মনে হয় আকাশ থেকে পড়লাম। দুদিন আগে নিয়েছিলাম, এখনই দাম বেড়ে গেছে।"
সরেজমিনে দেখা যায়, দুইদিন আগেও যে চায়না রসুন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ২৩০ টাকায় উঠেছে। তবে দেশি রসুনের দাম কমে ৬০ টাকায় নেমেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের বাজারেও দামের ধাক্কা লেগেছে। রুই, তেলাপিয়া কিংবা পাঙাশ—কোনো মাছই ২০০ টাকার নিচে মিলছে না। কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম।
বাজারে মাঝারি আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০০ টাকা। বড় আকারের রুই কিনতে কেজিতে আরও ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। তেলাপিয়া কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশ মাছের দামও বেড়ে ২২০ টাকা কেজিতে উঠেছে।
নিউ মার্কেটের মাছ বিক্রেতা মো. হানিফ টিবিএসকে বলেন, "বাজারে মাছের সরবরাহ কিছুটা কম। এর মধ্যে রোজার মাস চলছে। সব মিলিয়ে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।"
মুরগির বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ২৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালি ও লেয়ার মুরগি এখন ৩০০ টাকা কেজি। তবে ডিমের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম হালি ১১০ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লালবাগের মুরগি ব্যবসায়ী হেলাল টিবিএসকে বলেন, "মাছের দাম একটু বেশি থাকায় মানুষ মুরগি বেশি কিনছে। এজন্য সব ধরনের মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের আগে দাম আরও বাড়তে পারে।"
অন্যদিকে গরুর মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে মাছ কিনতে আসা আশরাফুল টিবিএসকে বলেন, "রোজার মাস শুরু হতেই মাছের বাজারে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের চাপ বাড়ছে। ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছই মিলছে না। সাধারণ পাঙাশও এখন কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। টমেটো ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা থেকে নেমে ৬০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং করলা ১৬০ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবু ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গাজর কেজি ৫০ টাকা এবং আলু কেজি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আদা বিক্রি হচ্ছে কেজি ১২০ টাকায়।
চালের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মিনিকেট চাল কেজি ৮০ টাকা, পাইজাম ৫৫ টাকা এবং আটাশ চাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুগ ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায় উঠেছে, যা আগে ছিল ১৬০ টাকা। তবে ছোলা, ডাবলি বুট ও মসুর ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
তেলের বাজারও স্থিতিশীল। সয়াবিন তেল কেজি ২০০ টাকা এবং পাম তেল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
