তেল, মুরগি ও চালের দামে ঊর্ধ্বগতি; স্থিতিশীল সবজির বাজার
বেশ কয়েক মাস সহনীয় থাকার পর রমজানের আগে তেল ও মুরগির দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে সবজির বাজার এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকার কারওয়ান বাজার, লালবাগ ও নিউ মার্কেট ঘুরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।
খোলা সয়াবিন তেল এখন লিটারপ্রতি প্রায় ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যা আগে ছিল ১৬৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা।
মাংসের দামে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাদামি ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকা এবং সাদা ডিম ডজনপ্রতি প্রায় ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রোজা শুরু হতে এখনও প্রায় তিন সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। বাজারে খোলা পোলাও চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকায়। প্যাকেটজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চালের দাম আরও বেশি। ব্র্যান্ডভেদে প্রতিকেজি চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।
এছাড়া সরু বা মিনিকেট চালের দাম আগের মতোই চড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। তবে মাঝারি ও মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫২ থেকে ৫৩ টাকা এবং মাঝারি মানের চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লালবাগের চাল ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, "এক মাস ধরে পোলাও চালের বাজার চড়া। প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।"
একইভাবে ব্র্যান্ডগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম খুচরা পর্যায়ে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে এক মাস আগের তুলনায় মোটা ও মাঝারি চালের কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কমেছে বলে জানান তিনি।
১৫ থেকে ২০ দিন ধরে ছোলাসহ কয়েক ধরনের ডালের দাম বেড়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ছোলার কেজি ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। পরে বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় উঠলেও আবার কমেছে। বর্তমানে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়।
একইভাবে অ্যাংকর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় নেমেছে। বড় দানার মসুর ডালের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বর্তমানে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
শীতের সবজির বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দামে সামান্য কমেছে। বেশির ভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে নতুন আলুর কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা—যা এখন ২০ থেকে ২৫ টাকায় নেমেছে। মান ও জাতভেদে শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজির কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি দিতে হয়েছিল। বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি, কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটোর দাম আরও কমেছে। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আকারভেদে ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে—যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। আকারভেদে রুই ও কাতলা কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ও চাষের কই মাছের কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা এবং পাঙাশের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
তবে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
