ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন।
কর বাড়ানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে মিডিয়ায় এসেছে। বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও অনেক কম, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অনেক বেশি। এই রেশিও কম হওয়ার কারণে আমাদের অর্জিত রাজস্ব সরকারের প্রশাসনিক খরচ মেটাতেই চলে যায়, যা উন্নয়নে ব্যয় করা সম্ভব হয় না। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও বাড়ানোর কথা বলেছেন। ব্যক্তি খাতে কর বাড়বে না।'
রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজার এখন স্থিতিশীল রয়েছে। শুরুর দিকে দু-একদিন লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অহেতুক বেড়ে গেলেও এখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। এ ছাড়া তিনি আশ্বাস দেন যে, 'ঈদের আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।'
মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার নিরলস কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া স্পেনে অবস্থানরত বা গমনেচ্ছুক বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। এসব কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার কাজ করছে।'
সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে এ অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি থাকে। এটি মোকাবিলায় কিছু প্রকল্প চলমান আছে এবং নতুন আরও কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমেও আলোচনা চলছে। দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী সুরমা ও চেঙ্গার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। আর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে যান।
