১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ ১২ লাখ কৃষকের জন্য স্বস্তি আনতে পারে: সেলিম রায়হান
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত ১২ লাখ কৃষকের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সেলিম রায়হান বলেন, নতুন সরকারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনতে পারে
তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অনেক কৃষকই মৌসুমি ফসলহানী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা বাজারমূল্যের ওঠানামার কারণে ঋণের চাপে পড়ে যান। এই প্রেক্ষাপটে প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা মওকুফের উদ্যোগ তাদের তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমাবে, পুনরায় চাষাবাদে বিনিয়োগের সুযোগ দেবে এবং মানসিক স্বস্তিও এনে দেবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য এটি একটি নতুন সূচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তবে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং অর্থায়নের উৎস নিয়েও ভাবনা খুবই জরুরি। প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় সরকার কীভাবে বহন করবে - তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদি এটি সরাসরি বাজেট বরাদ্দ থেকে আসে, তাহলে অন্য খাতে ব্যয় সংকোচন বা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে। আবার ব্যাংকগুলিকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হলে বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণের চাপ বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, পাশাপাশি ঋণ মওকুফ ভবিষ্যতে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের প্রবণতায় প্রভাব ফেলতে পারে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে অনীহার প্রবণতা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীরা এতে বৈষম্যের অনুভূতিও পেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরাই সুবিধা পান। কোনো ধরনের অপব্যবহার, অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং জনআস্থাও ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই কার্যকর নজরদারি ও সুশাসনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা জরুরি।
অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, সত্যিকার অর্থে, নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে - ঋণ মওকুফের পাশাপাশি টেকসই কৃষি সহায়তা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, ফসল বীমা ও সহজ শর্তে পুনঃঅর্থায়নের মতো কাঠামোগত সংস্কার চালু করা, যাতে কৃষি খাত দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।
