১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করছে সরকার
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই বিশাল অংকের ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগ থেকে আজ এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কৃষকদের নিকট সুদসহ প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, যা এই মওকুফ সুবিধার আওতায় আসবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঋণ মওকুফের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকগণ ঋণের দায় হতে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ এখন তারা উন্নত মানের বীজ সংগ্রহ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মাথার ওপর ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন।
এই মওকুফ প্রক্রিয়ার ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমানও উন্নত হবে। ফলে তারা ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের স্থানীয় মহাজনদের উচ্চ সুদের ঋণের হাত থেকে রক্ষা করবে। ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকরা শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে আরও উৎসাহিত হবেন, যার ফলে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমবে। এছাড়া এই পদক্ষেপের ফলে গ্রাম হতে নগরমুখী অভিবাসন কমবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগটিও কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।
