যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, মন্তব্য করার সময় আসেনি: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সই করা বাণিজ্য চুক্তি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বৈশ্বিক শুল্ক এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি। পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার পরই পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা একটি সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) ইস্যু ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, সেই দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।"
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শুল্ক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সেখানে পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল বা 'ইভলভিং সিনারিও'। তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্যকৃত ট্যারিফ (শুল্ক) 'মেইনটেইনেবল' নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে এখনো লিখিত কিছু পাইনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখ্যায় যা আছে, তা ১৫০ দিনের মধ্যে দেশটির কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "বাকি যা তথ্য, তা আমরা টিভিতে দেখছি। সরকারি কোনো কাগজপত্র এখনো আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারো আমি বলব—ইভলভিং।"
বিগত সরকারের সই করা বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "এই চুক্তির ব্যাপারেও এখনো বলার মতো কোনো অবস্থার তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করব।"
অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তির বিষয়গুলো গোপন করেছিল কি না বা কোনো তাড়াহুড়ো ছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চুক্তির আলোচনার সময় কিছু 'নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট' (তথ্য প্রকাশ না করার চুক্তি) ছিল।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি এবং চুক্তিসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোনো সেক্টরের কী সমস্যা রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কথা হয়েছে।"
