হরমুজে মাইন বসানো নৌযান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ১৬টি ইরানি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ 'নিষ্ক্রিয়' বা ধ্বংস করেছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি ওই প্রণালীতে কোনো মাইন পেতে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১০টি নিষ্ক্রিয় মাইন স্থাপনকারী জাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।
বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহকারী এই জলপথে ইরান মাইন স্থাপন শুরু করেছে—এমন সংবাদ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেছেন, 'ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, যদিও আমাদের কাছে তেমন কোনো রিপোর্ট নেই, তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক!'
তিনি আরও লেখেন, 'তেহরান যদি এটি না করে তবে তাদের সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।' তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেই একই প্রযুক্তি এখন হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপনের চেষ্টাকারী যেকোনো বোট বা জাহাজকে 'স্থায়ীভাবে নির্মূল' করতে ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক বহনকারী হিসেবে অভিযুক্ত বেশ কিছু জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যাতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পেন্টাগন জানিয়েছিল, তারা ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজ এবং মাইন সংরক্ষণের স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ইরানের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যেই কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
পোস্ট মুছে ফেলা ও বিভ্রান্তি
মঙ্গলবার মার্কিন শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, যদি নির্দেশ দেওয়া হয় তবে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করে দেওয়ার সম্ভাব্য উপায়গুলো খতিয়ে দেখছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
তিনি পেন্টাগনে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা সেখানে বেশ কিছু বিকল্প নিয়ে ভাবছি।'
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, শিপিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রায় প্রতিদিনই পাহারার অনুরোধ জানানো হলেও মার্কিন নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
মঙ্গলবার জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে দাবি করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে এই জলপথ দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে, কিন্তু পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়নি।
জ্বালানি দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, 'সচিব রাইটের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কারণ এটি জ্বালানি দপ্তরের কর্মীদের দ্বারা ভুল ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করা হয়েছিল।'
রাইটের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একজন মুখপাত্র তেলবাহী জাহাজ পাহারার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, 'মার্কিন নৌবহর এবং তাদের মিত্রদের যেকোনো মুভমেন্ট আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হবে।'
