নির্বাচনি ইশতেহার: নির্বাচিত হলে ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন করবে বিএনপি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জানিয়েছে, সরকার গঠন করতে পারলে 'ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন' গঠন করা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত ইশতেহারের রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার অংশে গণতন্ত্র ও জাতি গঠনের মধ্যে বিষয়টি যুক্ত করেছে বিএনপি।
ইশতেহারে দলটি জানায়, বিএনপি ইশতেহারে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, যেখানে দুর্নীতি দমন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য।
সুশাসনের এই রূপরেখায় দুর্নীতি দমনে পদ্ধতিগত সংস্কারের পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল-টাইম অডিট এবং অর্থপাচার রোধ করে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে 'ন্যায়পাল' নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম প্রতিরোধের পাশাপাশি বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, জনপ্রশাসনে দলীয়করণ রোধ ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে 'প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন' এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের মাধ্যমে 'মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ' গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীকে একটি স্বাধীন ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে একটি 'পুলিশ কমিশন' গঠন এবং অনলাইনে অভিযোগ দায়েরের সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে বিএনপি একটি 'ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন' গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে একটি ভবিষ্যৎমুখী নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
এই কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অভিন্ন জাতীয় সত্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে সবার পরিচয় হবে, 'আমরা সবাই বাংলাদেশি'।
মূলত বিভাজন অতিক্রম করে একটি ঐক্যবদ্ধ ও অখণ্ড জাতীয় সত্তা গড়ে তোলার মাধ্যমেই প্রকৃত জাতি গঠন সম্ভব বলে বিএনপি বিশ্বাস করে এবং এই লক্ষ্যেই তারা 'ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন' গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
