আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমানই ‘স্পষ্টভাবে এগিয়ে’: টাইম
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের 'ক্লিয়ার ফ্রন্ট রানার' বা এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
টাইম ম্যাগাজিন বিষয়টি এভাবে বর্ণনা করেছে, শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে ১৮ মাস আগে শেখ হাসিনার পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনে তারেক রহমানই স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন।
আজ বুধবার ম্যাগাজিনটি এ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান নিজেকে এমন এক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যিনি একদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির ধারার সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে তরুণ বিপ্লবীদের আশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে সক্ষম।
টাইম উল্লেখ করেছে, বিষয়টি এক ধরনের বিদ্রূপও বটে। কারণ, বাংলাদেশের কার্যত বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তারেক রহমানের ভাষণ টানা এক দশক ধরে তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ ছিল।
দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর এটাই ছিল বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রথম সাক্ষাৎকার।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, "আসলে আমি কথা বলতে খুব একটা পারি না…তবে যদি আমাকে কোনো কাজ করতে বলা হয়, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।"
টাইম লিখেছে, তার সমর্থকদের কাছে তারেক রহমান একজন "নির্যাতিত ত্রাণকর্তা", যিনি সংকটে জর্জরিত দেশকে রক্ষা করতে ফিরে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজে বিশ্বাস করেন, দেশের সংকট মোকাবিলায় তিনিই সঠিক ব্যক্তি।
তিনি বলেন, "আমি এখানে এসেছি শুধু আমার বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে নয়; বরং আমার দলের সমর্থকরাই আজ আমাকে এখানে এনেছেন।"
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলো তারেক রহমানের জন্য ছিল ঘটনাবহুল। তিনি গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সারা রাত অপেক্ষা করা লক্ষাধিক সমর্থক তাকে অভ্যর্থনা জানান।
আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই তার মা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আরও বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে।
মায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তার হৃদয়টা ভীষণ ভারি হয়ে আছে।
তিনি বলেন, "তবে মায়ের কাছ থেকে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি, তা হলো যখন কোনো দায়িত্ব আপনার ওপর আসে, তখন সেই দায়িত্ব পালন করতেই হবে।"
টাইম জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছিল ১৯ শতাংশ।
সাক্ষাৎকারটিতে তারেক রহমানকে "নরম স্বভাবের ও অন্তর্মুখী" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বেশি কথা বলার চেয়ে শুনতে পছন্দ করেন। লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে তার প্রিয় সময় কাটত সবুজে ঘেরা রিচমন্ড পার্কে হাঁটাহাঁটি করে, নিজের চিন্তায় মগ্ন হয়ে কিংবা ইতিহাসের বই পড়ে।
তার প্রিয় চলচ্চিত্র এয়ার ফোর্স ওয়ান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি সম্ভবত ছবিটি আটবার দেখেছি।"
টাইমের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান একজন "নীতিকেন্দ্রীক রাজনীতিক", যিনি যেকোনো বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করতে সক্ষম।
দেশে ফেরার পর থেকে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন তারেক রহমান। তিনি ১২ হাজার মাইল খাল খননের কথা বলেছেন।
ভূমি অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানো; ঢাকায় ৫০টি উন্মুক্ত সবুজ স্থান গড়ে তোলা; বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা; প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং 'ফ্যামিলি কার্ড' ও 'কৃষক কার্ড' প্রণয়নসহ নানা পরিকল্পনার কথা তিনি শুনিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, "আমি যদি আমার পরিকল্পনার অন্তত ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের জনগণ আমাকে সমর্থন করবে।"
২০০৭–২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তারেক রহমানকে ১৮ মাস কারাবন্দি রাখা হয়। কারাগারে থাকাকালে তিনি নির্যাতনের শিকার হন, যার ফলে তার মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যায় তিনি এখনো ভুগছেন। মূলত চিকিৎসার জন্যই তিনি যুক্তরাজ্যে যান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "শীত বেশি হলে আমার পিঠে ব্যথা শুরু হয়।"
