ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রমাণ হলে ভোটের পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইসি মাছউদ
ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে তথ্য গোপন করে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ভোটের পরেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ নির্বাচিত হলে কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারবে।
ইসি মাছউদ বলেন, 'নির্বাচনের সময় ঋণ খেলাপির অভিযুক্তরা ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে রিশিডিউল করা হয়। রিশিডিউল অনুযায়ী উনি বৈধতা পান, কিন্তু রিশিডিউলের পরে আর কোনো টাকা দেন না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কনস্টিটিউশনের ৬৬ (৪) ধারায় বলা হয়েছে- নির্বাচনের পরে যদি এমন অযোগ্যতা দেখা যায়, তাহলে তার কেসটাকে নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হবে, কমিশন সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক সময় পার্লামেন্টে প্রেরণ করা হয় না। অথচ ঋণখেলাপি থেকেই গেল। এই ব্যবস্থাটি জাতির জন্য শুভ জিনিস না।'
'এজন্য আরপিওতে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে যে, ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি নির্বাচনে পাশ করে যায়, তাহলে নির্বাচনের পরে নির্বাচন কমিশন স্বউদ্যোগে অথবা কোনো সংবাদের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন,' যোগ করেন তিনি।
দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনকারীদের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, 'দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ভুল তথ্য দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবে। তাদের সংসদ সদস্য বাতিল হয়ে যাবে।'
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একইসঙ্গে গণনা ও প্রকাশ করা হবে। এতে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নাকচ করে দেন ইসি মাছউদ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'না, আমি এটা বিশ্বাস করি না। কারণ, লোকাল গভমেন্ট নির্বাচনে একই দিনে ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের, মেম্বারের এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে ভোট হয় । তিনটা ভোট যদি তিনভাবে ভাগ করে অনেক ক্যান্ডিডেট যদি গণনা করা সম্ভব হয়, তাহলে এখানে কেন সম্ভব হবে না?'
তফসিলের পর নির্বাচন কমিশনের একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদল নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি দাবি করেন, এতে কমিশনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে না।
ইসি মাছউদ বলেন, 'মোটেই প্রশ্নবিদ্ধ না। প্রয়োজনের তাগিতে আইন পরিবর্তন করা হয়। সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন মনে করেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে নির্বাচনে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। বরং নির্বাচনের জন্য এটা সহজ হবে।'
