যশোরে এনসিপি ও স্বতন্ত্রসহ তিন প্রার্থীর মনোয়ন প্রত্যাহার: চূড়ান্ত লড়াইয়ে ৩৫ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসন থেকে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা এই আবেদন জানান।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী তিন প্রার্থী হলেন— যশোর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির, যশোর-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ এবং যশোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজিদ ফারহান। তবে যশোর-২ ও যশোর-৫ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে ওই আসন দুটিতে জামায়াত, স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং নির্বাচনের মাঠ জমে উঠছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জেলার ৬টি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৮ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার তিনজনের প্রত্যাহারের পর জেলার ছয়টি আসনে দুই বিদ্রোহীসহ চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছেন ৩৫ জন প্রার্থী।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বখতিয়ার রহমান।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে রয়েছেন বিএনপির সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর মোহম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী ইমরান খান, বিএনপির স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) জহুরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) প্রার্থী শামছুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) প্রার্থী রিপন মাহমুদ।
যশোর-৩ (সদর) আসনে থাকছেন বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রার্থী নিজামদ্দিন অমিত ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (বাসদ) প্রার্থী রাশেদ খান।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে লড়াই করবেন বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জাতীয় পার্টির এম এ হালিম, জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদিন, স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন এবং বিএনপির রশীদ আহমাদ।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন— জাতীয় পার্টির জি এম হাসান, বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান, জামায়াতে ইসলামীর মুক্তার আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম।
সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, যশোরের ৬টি আসনে মোট ২৪ লাখ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষে ১৪ হাজার ৮৬১ জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৮২৪ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৬৭৯ জন এবং ৯ হাজার ৩৫৮ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন।
