কক্সবাজারের ৪ আসনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, লড়াইয়ে থাকলেন ১৭ জন
কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনে ৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর ফলে জেলার ৪টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। এর বাইরে কক্সবাজার-৩ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী উচ্চ আদালতে তার মনোনয়নপত্র বহাল হয়েছে বলে দাবি করলেও মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেনি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন— কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের, কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের খেলাফত মজলিশের প্রার্থী ওবায়দুল কাদের নদভী এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আরাফাত।
ফলে জেলার ৪টি আসনে এখন চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৭ জন। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৫ জন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ হয় এবং ২ জনের বাতিল হয়েছিল। পরবর্তীতে আপিলে একজনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই ৪ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে একজন আজ (মঙ্গলবার) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে এই আসনে ৩ জন প্রার্থী হলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুখ এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ছরওয়ার আলম কুতুবী।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৭ জন। যাচাই-বাছাইয়ে ৫ জনের বৈধ হয় এবং ২ জনের বাতিল হয়েছিল। পরে আপিলে একজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই ৬ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে একজন আজ প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে এই আসনের ৫ জন প্রার্থী হলেন— বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলনের জিয়াউল হক, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) এস এম রোকনুজ্জামান খান এবং জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল করিম।
কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু-ঈদগাঁও) আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে ৫ জনেরই মনোনয়ন বৈধ হয়েছিল (অপর একজনের বাতিল হয়েছিল)। প্রত্যাহারের শেষ দিনে এই আসন থেকে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। বর্তমানে এই আসনের ৫ প্রার্থী হলেন— বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল, জামায়াতের শহীদুল আলম বাহাদুর, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুল ইসলাম, লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৬ জন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ৫ জনের বৈধ হয় এবং ২ জনের বাতিল হয়েছিল। বৈধ প্রার্থীদের মধ্য থেকে আজ একজন প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে এই আসনের ৪ জন প্রার্থী হলেন— বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতের নুর আহমদ আনোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর সাইফুদ্দিন খালেদ।
এদিকে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে কক্সবাজার-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মিয়ার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছিল। মঙ্গলবার ওই প্রার্থী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন যে, হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন। তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত কোনো উচ্চ আদালতের আদেশ বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাদের কাছে পৌঁছেনি।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
