হাইকমান্ডের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপির ৬৩ বিদ্রোহী প্রার্থী
আসন্ন সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। তবে দলের হাইকমান্ডের হুঁশিয়ারি ও বহিষ্কারের আলটিমেটাম সত্ত্বেও দমেননি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
দল থেকে ৫৬টি আসনে অন্তত ৬৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
এতে অনেক আসনে জয় নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। একাধিক আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হতে পারে। দলীয় ভাঙনের এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী লাভবান হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি জোটভুক্ত আসনগুলোতেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তা বিএনপির শরিকদের জয়ের সম্ভাবনা জটিল করে তুলেছে। বিএনপির মিত্রদের জন্য বরাদ্দ ১৭টি আসনের মধ্যে অন্তত ১০টিতে এখনো বিদ্রোহী প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে দলের নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতারা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও কেউ সরে না দাঁড়ালে বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে দল বাধ্য হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "কিছু জায়গায় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। অনেকেই নিজ উদ্যোগে সরে যাবেন। এরপরও কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে থাকলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি দাবি করেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "দল থেকে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। অনেকেই প্রত্যাহার করেছেন, অনেকে করেননি। যারা প্রত্যাহার করেননি, তাদের বিষয়ে বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।"
তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সামনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ায় আজ বুধবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পর তারা প্রচারণা চালাতে পারবেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
