কুমিল্লায় বিএনপি-জামায়াত পাল্টাপাল্টি হামলা ও অগ্নিসংযোগ, আহত ৩
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাড়ি, জামায়াতের তিনটি নির্বাচনী কার্যালয়, একটি দোকান এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টায় উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা গ্রামে বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়ার বাড়িঘরে একদল লোক হামলা চালিয়ে কুপিয়ে তছনছ করে। বাচ্চু মিয়ার দাবি, ওই দিন বিকেলে রাজনৈতিক কথা-কাটাকাটির জের ধরে জামায়াত-শিবির কর্মীরা এই হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ঘরে রাখা গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
একই রাতে ধনিজকরা গ্রামে জামায়াতের একটি নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়া হয়। এরপর সোমবার রাত ২টায় গাছবাড়িয়া গ্রামের তেলিপুকুর পাড়ে জামায়াতের আরেকটি নির্বাচনী কার্যালয়ে মোটরসাইকেলে আসা তিন মুখোশধারী যুবক আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই অফিস এবং পাশের নাসির নামের এক ব্যক্তির মুদি দোকান পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়। দোকানি নাসির দাবি করেন, আগুনে তার প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
একই রাতে কালিকাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর মোসলেম মার্কেটেও জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া সোমবার ভোররাতে বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদরাসার ছাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
সহিংসতার জেরে সোমবার দুপুরে ধনিজকরা বাজারে উভয়পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন এবং জামায়াত সমর্থক তাসকিন আহত হন। এদিকে বাসে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদ ও দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে নানকরা আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
ধনিজকরায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের মালিক শাহাদাত হোসেন গোলাপ বলেন, 'বিএনপির কর্মীদের আগুনে আমার মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।' সমেশপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, দুই ছাত্রদল কর্মী জামায়াত অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন বলেন, 'নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্ত চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করতে পাঁয়তারা করছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে তারা তিনটি নির্বাচনী অফিস আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের আগুন থেকে রেহাই পায়নি নানকরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ও জামায়াত অফিসের পাশে মুদি দোকান। জনসমর্থন না থাকায় তারা জ্বালাও-পোড়াও করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করতে চাইছে। চৌদ্দগ্রামের জনতা তাদের এ হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হতে দেবে না, ইনশাআল্লাহ।'
অপরদিকে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, 'রোববার রাতে জামায়াতের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা ধনিজকরায় বিএনপির সমর্থক বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একই সাথে ওই বাজারে অবস্থিত আমাদের পার্টি অফিসও ভাঙচুর করা হয়েছে।'
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গুলজার আলম বলেন, 'ধনিজকরায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
