ট্রাম্প হামলা চালালে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে তাদের কিছু কর্মী প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বুধবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে ইরানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি হামলা চালায় তবে তেহরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানবে।
বর্তমানে ইরান তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হস্তক্ষেপের হুমকি ঠেকানোর চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান ঘাঁটিগুলো থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, দুইজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন বলেন, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা হতে পারে। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তাও জানিয়েছেন যে ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে, যদিও এর পরিধি এবং সময় এখনও স্পষ্ট নয়।
কাতার জানিয়েছে, এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি আল উদেইদ এয়ার বেস থেকে কর্মী কমানোর প্রক্রিয়াটি 'বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে' পরিচালিত হচ্ছে। তিনজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, কিছু কর্মীকে ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গত বছরের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে যেভাবে বিপুল সংখ্যক সৈন্যকে বাসযোগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, এবার এখনও তেমন কোনো বড় লক্ষণ দেখা যায়নি।
ইরানে ইসলামি শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ফলে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প বারবার এই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। ইরান এবং তার পশ্চিমা প্রতিপক্ষ উভয়েই এই অস্থিরতাকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ গত কয়েক দিনে দ্রুত তীব্র রূপ নেয়।
একজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে একটি মানবাধিকার সংস্থা এই সংখ্যা ২ হাজার ৬০০-এর বেশি বলে দাবি করেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আবদালরহিম মুসাভি বুধবার বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে বলেন, ইরান 'এর আগে কখনও এই মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞের সম্মুখীন হয়নি'। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এই পরিস্থিতিকে 'ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস দমন-পীড়ন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতায় উস্কানি দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে এবং বলেছে যে এতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জড়িত।
