সংবাদকর্মীদের সংঘবদ্ধতা ও সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ করা প্রয়োজন: নূরুল কবীর
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ-এর সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেছেন, 'গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা, সর্বব্যাপী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা হতে পারে না।'
তিনি বলেন, ' তারপরেও এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করবার মাধ্যম হিসেবে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করে, সেগুলোকে স্তব্ধ করে দেবার জন্যে যারা নানা ভাবে—রাষ্ট্রের দিক থেকে, সরকারের দিক থেকে, আইনগত ভাবে বা আইনের বাইরে মাসলের মাধ্যমে চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে আমি বলছি যে—নিজেদের মধ্যে একদিকে যেমন এই সঙ্গবদ্ধতা ও সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ করা প্রয়োজন, তেমনি গোটা সমাজের মধ্যে আমাদের এই চিন্তার সঞ্চার করতে সবাইকে সম্মিলিত ভাবেই সহযোগিতা করতে হবে।'
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এই সম্মিলনের আয়োজন করে।
নূরুল কবীর বলেন, 'সংবাদপত্র ও অপরাপর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো কেবলমাত্র ২০০, ৫০০ বা ৫-১০ হাজার সাংবাদিকের মনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবারই একমাত্র হাতিয়ার নয়। এগুলো যদি সচল ও সক্রিয় না থাকে, এগুলো যদি উচ্চকণ্ঠ না হতে পারে, তবে গোটা সমাজের মধ্যেই নানা ধরণের অধিকার ব্যাহত হতে বাধ্য। ফলে যেকোনো দেশে গণমাধ্যমের বিকাশ এবং সেই সমাজের সার্বিক গণতান্ত্রিক বিকাশ একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে।'
তিনি বলেন, 'এটা এক ধরনের ট্রমা হয়তো আমার মধ্যে সারা জীবন কাজ করবে। এই যে আক্রমণের ব্যাপারটা আমরা উল্লেখ করছি, অন্তত স্টারের অফিসে যে আক্রমণটা—এটা মোটেও একটা বিল্ডিংয়ের ওপর আক্রমণ ছিল না। কিংবা কারোর যদি ক্ষোভ থেকে থাকে, সেই ক্ষুব্ধ থাকবার কারণে বিল্ডিংটা ভাঙবার বা যন্ত্রপাতি নষ্ট করবার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এটা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, 'আপনারা লক্ষ্য করুন, ব্যাপারটা এই সময়ে পৃথিবীর ও সভ্যতার বিকাশের এই পর্যায়ে এসে—মধ্যযুগীয় কায়দায় কতগুলো সাংবাদিককে ভেতরে রেখে চারদিক দিয়ে আগুন দিয়ে, দমকল বাহিনী আসতে বাধা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে—তাদেরকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মধ্যযুগীয় একটা বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ।'
নূরুল কবীর বলেন, 'এই পত্রিকার মতামতের সঙ্গে আপনি একমত কি একমত নন, তার সঙ্গে আপনার বিরোধিতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে কি নেই—সেটার সঙ্গে এটি জড়িত না। আজকে এটার সঙ্গে হয়েছে, কালকে আপনারটার সঙ্গে হবে, পরশুদিন আরেকটার সঙ্গে হবে। এরকম একটা পরিস্থিতিতে আমি মনে করি আমাদের এই সঙ্গবদ্ধতা অত্যন্ত জরুরি। সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মানুষ কথা বলবে। এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
